সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ভারতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প
ছবি : Collected

আধুনিক বিশ্ব রাজনীতিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির এই অবাধ প্রবাহের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈশ্বিক রাষ্ট্রনেতাদের প্রতিটি মন্তব্য, কার্যকলাপ ও বিবৃতি বিশ্ববাসীর অত্যন্ত তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকে। কোনো শীর্ষ নেতার সামান্য ভুলভ্রান্তি বা অসাবধানতাবশত করা মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনামে পরিণত হয়।

 

ঠিক এমনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত, বিব্রতকর ও কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশ ব্রাজিলের চলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের নির্বাচন বলে ভুলবশত উল্লেখ করেছেন।

 

কেবল ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এই বিভ্রাটই নয়, একই বার্তায় তিনি নিজের দেশের অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

তাঁর এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তা বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে এবং একই সঙ্গে অতীতে তাঁর করা অনুরূপ বিভিন্ন ভুলগুলোকেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে গত ৪ অক্টোবর, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিস্তারিত বার্তা প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় তিনি মূলত ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের দ্রুততা ও গতিশীলতার প্রশংসা করতে চেয়েছিলেন।

 

কিন্তু তিনি দেশটিকে ভুলবশত ‘ভারত’ বলে উল্লেখ করে বসেন। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত সেই বার্তায় তিনি লেখেন, "আজ ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে।

 

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানকার নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে।" ব্রাজিলের নির্বাচন কমিশনের এই দ্রুততার প্রশংসা করার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী কাঠামোর সঙ্গে এর একটি তুলনামূলক নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "একই দিন ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া, ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় শহর এবং অঙ্গরাজ্যেও কংগ্রেস নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাজিলের তুলনায় এসব মার্কিন নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যাও অনেক কম।

কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্বাচনের কারচুপির জন্য, অর্থাৎ সুকৌশলে ভোট গণনার নামে এখানে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন ব্যবস্থা চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও ত্রুটিপূর্ণ।"

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সংক্ষিপ্ত বার্তায় অত্যন্ত মৌলিক, শাসনতান্ত্রিক ও গুরুতর দুটি ভুল স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। প্রথমত, তিনি যে নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি মূলত লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, কোনোভাবেই তা ভারতে নয়।

 

দ্বিতীয়ত, ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থার ন্যূনতম কোনো মিল নেই। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতি কখনোই সরাসরি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না।

 

বরং ভারতের সংবিধান ও শাসনতন্ত্র অনুযায়ী, সংসদের উভয় কক্ষ এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোর নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি স্বতন্ত্র ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ বা নির্বাচকমণ্ডলীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

 

এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি ‘একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট’ পদ্ধতি এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও জটিল প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। ফলে ভারতে একদিনে ১২ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ নাগরিকের সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার দাবিটি বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে রাজনৈতিক অজ্ঞতার স্পষ্ট পরিচায়ক।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন, তখন ব্রাজিলে সত্যিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল গণনার কাজ চলছিল। রোববারের ওই নির্বাচনে দেশটিতে এক তীব্র, মেরুকৃত ও শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র দেখা যায়।

 

প্রথম ধাপের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়েও অভাবনীয় ও চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছেন সাবেক কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং বর্তমান ডানপন্থী ব্রাজিলীয় সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রাপ্ত দাপ্তরিক ফলাফল অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন।

 

অন্যদিকে, তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ব্রাজিলের প্রবীণ, জনপ্রিয় বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট। ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীই এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিশ্চিত করতে না পারায়, আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চূড়ান্ত বা ‘রান-অফ’ নির্বাচনে এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক মেরুর নেতা পুনরায় একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

 

লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে ব্রাজিলের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নির্বাচনের ফলাফল কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।

 

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চরম ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে রীতিমতো হাসির খোরাক জুগিয়েছে। নেটিজেনরা বিভিন্ন রসিকতা, মিম এবং ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁর এই ভুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমাচ্ছেন কি না, যার অভাবে এমন অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসছে।

 

একজন ব্যবহারকারী বেশ কৌতুক ও তিরস্কারের সুরে লিখেছেন, "প্রেসিডেন্টের সম্ভবত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। তিনি মনে করেন ১৪০ কোটি বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারতে মাত্র ১২ কোটি ৫০ লাখ ভোটার রয়েছে। আরে ভাই, একটু চোখ খুলে ভালো করে খেয়াল করে দেখুন, এটা ভারত নয়, এটা স্পষ্টতই ব্রাজিল।"

 

অপর এক ব্যবহারকারী আরেক ধাপ এগিয়ে তীব্র রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, "আজকের এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে কাল হয়তো তিনি নিজের সুবিধার্থে ও ভুল ঢাকতে ব্রাজিলের নাম বদলে ভারত রেখে দেবেন।"

 

ট্রাম্পের পোস্টের শাসনতান্ত্রিক ও মৌলিক ভুলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধরিয়ে দিয়ে অপর এক রাজনীতি সচেতন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এখানে শুধু দুটি ভিন্ন দেশ গুলিয়ে ফেলার চেয়েও আরও বড় সমস্যা হলো অন্য দেশের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা। ভারতীয় নাগরিকরা কখনোই সরাসরি তাঁদের রাষ্ট্রপতিকে ভোট দেন না।

 

কারণ, ভারতে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো সরাসরি প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থা সেখানে একেবারেই অনুপস্থিত।" এছাড়া আরও এক নেটিজেন অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেছেন, "ট্রাম্পের চোখে ব্রাজিল হয়তো সামাজিক মাধ্যমের অন্য কোনো রঙিন ফিল্টার লাগানো একটি ভিন্ন রূপের ভারত।"

 

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করার ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় তিনি দেশ ও আন্তর্জাতিক নেতাদের নাম গুলিয়ে ফেলে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়েছেন এবং সমালোচিত হয়েছেন।

 

তাঁর এই সর্বশেষ ভুলের কারণে নেটিজেন ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর অতীতের এমন সব বিস্মৃত স্মৃতিও পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সামরিক জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি এমনই এক অত্যন্ত বিব্রতকর ও অমার্জনীয় ভুলের জন্ম দিয়েছিলেন।

 

ওই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সময়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ইরানকে সম্পূর্ণ ভুলবশত ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ জাপান’ বা ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র জাপান’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা উপস্থিত কূটনীতিকদের দারুণভাবে হতবাক করেছিল।

 

সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর ওপর হওয়া একটি ভয়াবহ হামলার কথা স্মরণ করেন।

 

তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করে বলেছিলেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ জাপান আমাদের দিকে ১১১টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আমাদের ওই বিশাল বিমানবাহী রণতরীটিকে লক্ষ্য করে তারা ওই বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল।"

 

একটি পরাশক্তির নেতার মুখে এমন ভৌগোলিক অজ্ঞতা তখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ট্রাম্পের ভুলে যাওয়ার বা গুলিয়ে ফেলার তালিকা এখানেই শেষ নয়। এরও আগে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ বা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময়ও তিনি ভৌগোলিক নামকরণে এক বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করেছিলেন।

 

সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বারবার উত্তর আমেরিকার বরফাচ্ছাদিত বিশাল দ্বীপরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে ইউরোপের দেশ ‘আইসল্যান্ড’ বলে সম্বোধন করছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বিশ্বনেতার প্রকাশ্যে যেকোনো মন্তব্য বা ভাষণ প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক, সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন।

 

কারণ তাঁদের প্রতিটি উচ্চারিত শব্দের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনীতি, শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ওতপ্রোতভাবে নির্ভরশীল থাকে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ধরনের ধারাবাহিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক ভুলগুলো একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল বিনোদনের সাময়িক উপাদানে পরিণত হয়েছে, ঠিক অন্যদিকে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরাশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তি, গাম্ভীর্য ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতার জন্যও একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ও আস্থার সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।