রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, লুলা ও বলসোনারোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

ব্রাজিলে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, লুলা ও বলসোনারোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ছবি: সংগৃহীত

ল্যাটিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত বা দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশটির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আধুনিক ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।

 

এবারের নির্বাচনের মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন বর্তমান প্রবীণ প্রেসিডেন্ট এবং বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির অবিসংবাদিত নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তাঁর বিপরীতে প্রবল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন রক্ষণশীল ডানপন্থি শিবিরের তরুণ মুখ ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।

 

দেশজুড়ে পরিচালিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের একেবারে সমান সমর্থন লক্ষ করা গেছে, যা পুরো নির্বাচনটিকে একটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে পরিণত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল।

 

এর আগে গত ৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনেও কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হননি। ব্রাজিলের প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বা রান-অফ অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রথম দফার সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে ডানপন্থি নেতা ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে শীর্ষস্থানে ছিলেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। এই মাত্র দুই শতাংশ ভোটের ব্যবধান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছিল যে, ব্রাজিলের সমাজ ও রাজনীতি বর্তমানে কতটা গভীরভাবে মেরুকরণের শিকার।

 

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ‘ডেটাফোলহা’ নামক একটি স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সর্বশেষ জনমত জরিপেও দুই প্রার্থীর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট ব্যবধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। জরিপের আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, বৈধ ভোটের হিসাবে লুলা এবং ফ্লাভিও-উভয় প্রার্থীর পক্ষেই ভোটারদের সমর্থন ছিল ঠিক ৫০ শতাংশ।

 

ফলে শেষ হাসি কে হাসবেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে যাবে, তা নিয়ে গোটা দেশের ভোটার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

 

এবারের নির্বাচন মূলত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ, অর্থনীতি ও প্রজন্মের মধ্যে এক ঐতিহাসিক লড়াই। একদিকে রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, যিনি দীর্ঘকাল ধরে ব্রাজিলের শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

অন্যদিকে রয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী তরুণ রাজনীতিক ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং তাঁর মূল রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে সুপরিচিত। ফ্লাভিও মূলত দেশের রক্ষণশীল, ডানপন্থি এবং ব্যবসায়িক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন।

 

লুলার বামপন্থি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা নীতির বিপরীতে ফ্লাভিও বলসোনারো মুক্তবাজার অর্থনীতি, কঠোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রথাগত পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিচ্ছেন। দুই প্রার্থীর এই সুস্পষ্ট আদর্শিক বিভাজন সাধারণ ভোটারদেরও দুটি সুনির্দিষ্ট মেরুতে বিভক্ত করে ফেলেছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভোটের মাঠে।

 

ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এর পাশাপাশি ভঙ্গুর জননিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার ভোটারদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

 

অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির অভিযোগগুলোও জনমনে প্রবল অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি যিনি সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতিই নিজেদের সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

 

বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত ঘটনাবহুল এবং বর্ণাঢ্য। তিনি এর আগে ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

সেই সময় তাঁর গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কারণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথ পাড়ি দিয়ে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে পরাজিত করে পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসেন।

 

সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনটিও ছিল চরম নাটকীয়, যেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল দুই শতাংশেরও কম। আধুনিক ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সেটিকেই সবচেয়ে কম ব্যবধানের নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

এবারের এই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে যদি লুলা দা সিলভা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হন, তবে তিনি চতুর্থবারের মতো লাতিন আমেরিকার এই বৃহৎ দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের এক বিরল ও অনন্য ঐতিহাসিক সুযোগ লাভ করবেন, যদিও তাঁর এই মেয়াদগুলো নিরবচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক নয়।

 

অন্যদিকে, রক্ষণশীল শিবিরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটিও বেশ চমকপ্রদ ও নাটকীয়তায় ভরপুর। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর জইর বলসোনারোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং তিনি চরম আইনি জটিলতার মুখে পড়েন।

 

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাসংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের দীর্ঘ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সরকারি বা সাংবিধানিক পদে থাকার অযোগ্য বলে চিরতরে ঘোষণা করে।

 

শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে ২৭ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়। পিতার এই আকস্মিক আইনি পতন ও কারাবাসের পর রক্ষণশীল শিবিরের নেতৃত্ব শূন্যতা পূরণের জন্য তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

 

তবে জইর বলসোনারো সশরীরে রাজনৈতিক ময়দানে উপস্থিত না থাকলেও ব্রাজিলের রক্ষণশীল সমাজে তাঁর প্রবর্তিত মতাদর্শের প্রভাব এখনো অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও জাদুকরী। এর একটি বড় প্রমাণ পাওয়া যায় গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার নির্বাচনে, যেখানে ফ্লাভিওর পাশাপাশি জইর বলসোনারোর স্ত্রী মিশেল বলসোনারো ফেডারেল সিনেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেন।

 

এই বিজয় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, আইনি বাধা সত্ত্বেও ব্রাজিলের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় বলসোনারো পরিবারের শক্তিশালী প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল শুধুমাত্র ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

যদি ফ্লাভিও বলসোনারো এই নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, তবে সমগ্র লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থি ও রক্ষণশীল আদর্শের এক বিশাল পুনরুত্থান ঘটবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাভিওর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ব্রাজিলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন ও ঘনিষ্ঠ উচ্চতায় পৌঁছাবে।

 

বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দুই দেশের রক্ষণশীল সরকারগুলোর মধ্যে এক শক্তিশালী বলয় তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

 

অন্যদিকে লুলা বিজয়ী হলে আঞ্চলিক জোটগুলোতে বামপন্থি ও প্রগতিশীল দেশগুলোর প্রভাব যেমন বজায় থাকবে, তেমনি পরিবেশ রক্ষা, আমাজন বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল হবে।

 

ব্রাজিলের ২৬টি অঙ্গরাজ্য এবং ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার প্রবল আশা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও চরম অপেক্ষার পালা শুরু হয়েছে। রাজধানী ব্রাসিলিয়াসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে এখন একটাই মূল প্রশ্ন-ব্রাজিলের আগামী দিনের নেতৃত্ব কার হাতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে।

 

লুলার অভিজ্ঞ ও কল্যাণমুখী নেতৃত্ব নাকি ফ্লাভিওর তারুণ্যনির্ভর ও রক্ষণশীল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি-ব্রাজিলের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিয়েছে, তা জানতে এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

 

একটি তীব্র মেরুকৃত সমাজের এই গণতান্ত্রিক রায় শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যৎই নয়, সমগ্র লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এক সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

 

- আনাদোলু এজন্সি