এই তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত হয় কলম্বিয়ার 'ক্যাম্বিও' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। গত ২১ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ছবিতে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ জেমস ব্লেয়ারকে একটি ফোল্ডার হাতে দেখা যায়।
ওই ফোল্ডারে থাকা নথির শিরোনাম ছিল "দ্য ট্রাম্প ডকট্রিন" (The Trump Doctrine)। অভিযোগ উঠেছে, ওই নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর একটি 'মাগশট' বা কারাবন্দীর ছবি তৈরি করে সংযুক্ত করা হয়, যেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েদিদের মতো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কমলা রঙের জাম্পস্যুট পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। পেত্রোর ছবির পাশেই ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোরও একই ধরনের একটি ছবি ছিল।
প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই ঘটনাকে তার দেশের প্রতি "নৃশংস অসম্মান" বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রশ্নটি হলো, হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কেন আমাকে এমনভাবে চিত্রিত করছে যেন আমি মার্কিন কারাগারের একজন কয়েদি? এটি কলম্বিয়ার জনগণ, যারা আমাকে নির্বাচিত করেছে, এবং দেশের ইতিহাসের প্রতি এক চরম অবমাননা।"
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে "দ্য ট্রাম্প ডকট্রিন" শীর্ষক নথিটির কিছু বিবরণও ফাঁস করা হয়, যেখানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পাঁচটি পদক্ষেপের রূপরেখা রয়েছে। এর মধ্যে পেত্রো, তার পরিবার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পেত্রোর নির্বাচনী প্রচারণায় বিদেশি তহবিলের উৎসের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই নথিটি কলম্বিয়ান-আমেরিকান রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনোর স্বাক্ষর বহন করে।
প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই ঘটনাকে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "তারা এই জনপ্রিয় বিকল্পকে নির্মূল করতে চায় এবং তারা সহিংসতার মাধ্যমে তা করতে চায়।" তিনি আরও বলেন, "বিদেশি কারাগারে প্রেরিত হওয়ার চেয়ে তিনি কলম্বিয়ায় যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত।" পেত্রো এই পদক্ষেপের পেছনে সিনেটর বার্নি মোরেনোর "ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা" রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
রাষ্ট্রদূতকে তলব করার ঘোষণার পর কলম্বিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ম্যাকনামারাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়ায়। তবে কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি দ্রুত সেই গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট পেত্রো "কখনোই বহিষ্কার শব্দটি উচ্চারণ করেননি"।