মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় ৩০ বিলিয়ন পেসো ব্যয় সত্ত্বেও থামছে না ক্যালারকা গ্রুপের সহিংসতা ও বিতর্ক

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:৫৯ পিএম

কলম্বিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় ৩০ বিলিয়ন পেসো ব্যয় সত্ত্বেও থামছে না ক্যালারকা গ্রুপের সহিংসতা ও বিতর্ক
ছবি: El Colombia

কলম্বিয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের চলমান শান্তি আলোচনা ও সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিতর্ক ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও, বাস্তবে সহিংসতার মাত্রা বিন্দুমাত্র কমেনি।

 

দেশটির 'পিস কাউন্সিল'-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নেতৃত্বাধীন সরকারের 'টোটাল পিস' বা সর্বাত্মক শান্তি কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ বিলিয়ন পেসো ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কুখ্যাত 'ক্যালারকা' নেতৃত্বাধীন ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীর সঙ্গেই আলোচনায় খরচ হয়েছে ৩০ বিলিয়ন পেসোর বেশি। অথচ বিনিময়ে শান্তির পরিবর্তে মিলছে একের পর এক স্ক্যান্ডাল, হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের মতো গুরুতর অপরাধের খবর।

 

সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ (ইএমসি)-এর অংশ হিসেবে পরিচিত এই ক্যালারকা গোষ্ঠীটি মূলত ফার্ক (FARC)-এর একটি বিচ্ছিন্ন অংশ, যারা ২০১৬ সালের মূল শান্তি চুক্তিতে যোগ দেয়নি। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে ১১ জন প্রতিনিধি থাকলেও, ক্যালারকা গোষ্ঠীর প্রায় ৪০ জন অপরাধী আলোচনার টেবিলে বসেছে।

 

শান্তি আলোচনার অজুহাতে এই ৪০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করা হয়েছে, যা তাদের আইনি দায়মুক্তি ও অবাধ চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শান্তি আলোচনার আড়ালে এই গোষ্ঠীটি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করেছে। আমালফি গণহত্যা, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে এবং রাজনীতিবিদ মিগুয়েল উরিবে তুরবে হত্যাকাণ্ড-এই সবকিছুর সঙ্গেই ক্যালারকা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

 

মিগুয়েল উরিবে হত্যার ঘটনায় আটককৃতদের জবানবন্দিতে এই গোষ্ঠীর নাম উঠে এলেও ক্যালারকা এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে যখন কারাকোল নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই অপরাধী চক্রকে সহযোগিতা করছেন।

 

সেনাবাহিনীর পার্সোনেল কমান্ডের প্রধান জেনারেল জুয়ান মিগুয়েল হুয়ের্তাস এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিএনআই-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উইলমার মেজিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা সংবেদনশীল তথ্য পাচার করে অপরাধীদের বিচার এড়াতে সাহায্য করেছেন। পিস কাউন্সিলের তথ্যমতে, আলোচনা প্রক্রিয়ার ব্যয়ের মধ্যে শুধুমাত্র ভ্রমণ ও বিমান ভাড়াতেই খরচ হয়েছে ৬.৬ বিলিয়ন পেসো এবং আলোচকদের নিরাপত্তায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন পেসো। ইএলএন-এর পর এটিই দেশটির দ্বিতীয় ব্যয়বহুল শান্তি প্রক্রিয়া।

 

অথচ এই বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। যুদ্ধবিরতি ও আইনি শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ক্যালারকা গোষ্ঠী এবং তাদের ৩৬তম ফ্রন্ট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অবৈধ খনি ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সান ভিসেন্টে দেল কাগানে অনুষ্ঠিত আলোচনার সপ্তম রাউন্ডেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, বরং রাষ্ট্রীয় খরচে অপরাধীদের পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

 

- El Colombia No