ফ্লোরিডা থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে জাতির ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেন এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যের ওপর অতর্কিত ও চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
এই ঘটনার পরপরই মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীকে হেফাজতে নেয়। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটককৃত ব্যক্তির নাম রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ভিডিও বার্তায় সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় এবং তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়কাল নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আটক ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে আফগানিস্তানকে ‘নরকতুল্য স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন কেন এমন একটি দেশ থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া লোকজনকে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
তিনি হামলাকারীকে ‘পশু’ সম্বোধন করে বলেন, এই নৃশংসতার জন্য তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তাঁর অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আফগানিস্তান থেকে যত বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, তাদের প্রত্যেকের নথিপত্র এবং অবস্থানের বৈধতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।
যাদের উপস্থিতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয় বা যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তাদের অবিলম্বে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেন্টাগনকে তাৎক্ষণিকভাবে আরও ৫০০ সেনা সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমেরিকাকে আবারও সম্পূর্ণ নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং এই বর্বরোচিত হামলার দ্রুত ও নিশ্চিত বিচার করা হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী অবস্থানকে আরও শক্ত করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।