শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ, সিডনির মসজিদে তোপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

গাজায় অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ, সিডনির মসজিদে তোপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময় এক অপ্রত্যাশিত ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। শুক্রবার সকালে রাজধানী সিডনির অন্যতম বৃহৎ লাকেম্বা মসজিদে ঈদের নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে সাধারণ মুসল্লিদের তীব্র তোপের মুখে পড়েন তিনি।

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের দৃশ্যমান অবস্থান এবং নিজ দেশে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের কারণে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ, যার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত মসজিদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে হয়।

 

স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের বিশেষ আমন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ।

 

কিন্তু আনুষ্ঠানিকতার একপর্যায়ে যখন মসজিদের একজন নেতা সরকারের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের আরও নিবিড় যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই সাধারণ মুসল্লিদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

 

তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘গণহত্যা সমর্থক’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের অবিলম্বে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ভিড় ঠেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায় যে, তার উপস্থিতি অত্যন্ত লজ্জাজনক।

 

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নিলেও পরে কোনো আইনি অভিযোগ ছাড়াই তাকে এলাকা ত্যাগ করার শর্তে ছেড়ে দেয়। মসজিদ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কোনো ধরনের ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

 

বরং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানায়, গাজা ও লেবাননে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মানুষের আবেগ এখন চরম পর্যায়ে রয়েছে, যা মোটেও অমূলক নয়।

 

তবে দেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করা কোনো যৌক্তিক সমাধান হতে পারে না; বরং তাদের সামনে সম্প্রদায়ের তীব্র উদ্বেগ ও ন্যায্য দাবিগুলো সরাসরি তুলে ধরাই এই আমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

 

কমিউনিটি নেতা গামেল খেইরও দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সস্তা ছবি তোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং জবাবদিহির জন্যই রাজনীতিবিদদের সাধারণ মানুষের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

 

অন্যদিকে, এই চরম বিরোধিতার পরও প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ দাবি করেছেন যে, মসজিদে উপস্থিত প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের বিশাল অংশ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে।

 

গণমাধ্যমের কাছে তিনি এই বিক্ষোভের জন্য তার সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপকে দায়ী করেন, যার মধ্যে চরমপন্থি সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অন্যতম। প্রতিকূল পরিস্থিতির পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশ করে এই অংশগ্রহণকে নিজের জন্য সম্মানজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মেরুকরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজায় বাহাত্তর হাজারেরও বেশি মানুষের নিহতের পরিসংখ্যান এবং নিজ দেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।

 

আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক উত্তাপ দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ।

 

- বিবিসি ও ইয়ন