সম্প্রতি ‘অস্ট্রেলিয়া প্যালেস্টাইন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ও বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ওই প্রতিবেদনে দেশজুড়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক ও ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ কীভাবে তীব্র ও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তার একটি সুস্পষ্ট ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাধীনচেতা এই সিনেটর দেশের এই ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের জন্য সরাসরি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মাধ্যমগুলোকে দায়ী করেছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির পেছনে খোদ সরকার, বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর নেতিবাচক ও উসকানিমূলক ভূমিকা রয়েছে।
তাঁর মতে, এই ক্ষমতাধর মাধ্যমগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে এবং সক্রিয়ভাবে সাধারণ মানুষের মনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও চরম বিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ ফলে অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি বহুজাতিক সমাজে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান ক্রমশ প্রান্তিক ও অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, যা একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অস্ট্রেলিয়ার চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রতিবাদী আদিবাসী আইনপ্রণেতা। তিনি দেশের বিক্ষোভ, সমাবেশ ও নাগরিক মতপ্রকাশ সংক্রান্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপগুলোর তীব্র সমালোচনা করে জানান, নতুন করে প্রণীত বা সংশোধিত এই দমনমূলক আইনগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হলো ফিলিস্তিনিদের আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে দেওয়া।
বিশেষ করে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে যারা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বা সোচ্চার হচ্ছেন, তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস হিসেবেই তিনি এই আইনি কড়াকড়িকে দেখছেন।
মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপকে তিনি চরম হতাশাজনক বলে আখ্যায়িত করেন। পরিশেষে একটি সুস্থ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন লিডিয়া থর্প।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং নিজ দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে যদি অস্ট্রেলিয়া সত্যিই নিজেদের অতীতের ক্ষত সারিয়ে তুলতে চায় এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে সামনে অগ্রসর হতে চায়, তবে এই দেশ থেকে সব ধরনের বর্ণবাদ ও কাঠামোগত বৈষম্যকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান এই অবিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্বেষ দ্রুত বন্ধ না হলে মানবাধিকারের সার্বজনীন স্বীকৃতি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন।