সোমবার, ১৩ই এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে নারী ক্ষমতায়ন ও কৌশলগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট অংশ হিসেবে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও চৌকস সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়লিকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ কেবল অস্ট্রেলিয়ার জন্যই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নারী ক্ষমতায়ন এবং সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নবনিযুক্ত এই নারী সেনাপ্রধান আগামী জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
বর্তমানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়লি অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর যৌথ সক্ষমতা বিভাগের প্রধান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী জুলাই মাসে তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিমন স্টুয়ার্ট ২০২২ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর এই সর্বোচ্চ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর সফল মেয়াদ শেষে এবার এক নারী কর্মকর্তার হাতে এই বৃহৎ বাহিনীর নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়লির সামরিক কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য, বৈচিত্র্যময় এবং সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তিনি গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত সততা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের সেবা করে আসছেন।
সুদীর্ঘ এই সামরিক জীবনে তিনি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নানা গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পদে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের অসামান্য স্বীকৃতি রয়েছে।
বিশেষ করে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ট্রেলীয় সামরিক বাহিনীর হয়ে তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
তাঁর এই বিস্তৃত ও বাস্তবমুখী কৌশলগত অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজকের এই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় নিয়োগের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গভীর উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর দীর্ঘ একশো পঁচিশ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশবাসী একজন সুযোগ্য নারী সেনাপ্রধান পেতে যাচ্ছে, যা সমগ্র জাতির জন্য একটি পরম গৌরবের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়লিকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মেধা, যোগ্যতা ও সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেওয়া এই রাষ্ট্রীয় নিয়োগ বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীতে নারীদের আরও বেশি মাত্রায় অংশগ্রহণ এবং বৃহত্তর নেতৃত্ব প্রদানে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে।