শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় বাতিল হলো বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ নির্মাণের পরিকল্পনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬, ০২:২০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় বাতিল হলো বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ নির্মাণের পরিকল্পনা
ছবি: CNN

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট শহরে দেশটির প্রথম ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ নির্মাণের বহুল আলোচিত পরিকল্পনাটি ঘোষণার মাত্র তিন মাসের মাথায় চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় স্বনামধন্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আলটাস প্রপার্টি গ্রুপ এই মেগা প্রকল্প থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড ইয়াং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে ‘ট্রাম্প’ ব্র্যান্ডটি অত্যন্ত নেতিবাচক বা বিষাক্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই বিরূপ জনমতের কারণেই তারা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সাথে করা চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নির্ধারিত স্থানে সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণের কাজ অব্যাহত থাকবে, শুধু ট্রাম্পের নামের পরিবর্তে ভবনটিতে অন্য কোনো উপযুক্ত নাম ব্যবহার করা হবে।

 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলটাস প্রপার্টি গ্রুপ ৯১ তলা বিশিষ্ট এই বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের জাঁকজমকপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছিল, যা সফল হলে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ভবনের স্বীকৃতি পেত।

 

প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, এই সুবিশাল কাঠামোতে ২৮৫টি কক্ষবিশিষ্ট একটি পাঁচতারা হোটেল, একটি আধুনিক শপিং প্লাজা এবং বেশ কিছু অভিজাত আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট থাকার কথা ছিল।

 

ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্প সরাসরি এই মেগা প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

 

বিশেষত ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টির প্রতিবাদে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্প অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবিতে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন।

 

জানা যায়, ‘সিকে’ ছদ্মনাম ব্যবহারকারী এক নারী এই প্রতিবাদী পিটিশনটির সূচনা করেছিলেন। ট্রাম্প সমর্থকদের সম্ভাব্য রোষানল ও আক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি গণমাধ্যমে নিজের আসল পরিচয় গোপন রাখেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও চরম অস্থিরতার দৃশ্য দেখে ব্যথিত হয়েই তিনি প্রতিবাদস্বরূপ এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান। অন্যদিকে, আলটাস প্রপার্টি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ডেভিড ইয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যাপক জনরোষকে ‘অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সফল হওয়া সত্ত্বেও কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার কারণে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হলো না।

 

এদিকে, গোল্ড কোস্ট শহরের মেয়র টম টেট একসময় এই মেগা প্রকল্পের প্রবল সমর্থক থাকলেও, বর্তমানে তিনি ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সিটি কাউন্সিলের কাছে এই ভবন নির্মাণের জন্য কখনোই কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন বা নকশা জমা দেওয়া হয়নি।

 

মেয়রের মতে, এই চুক্তি বাতিলের পেছনে কেবল রাজনৈতিক রোষ বা ভাবমূর্তির সংকটই দায়ী নয়, বরং গভীর আর্থিক জটিলতাও একটি বড় কারণ হতে পারে। তাঁর ধারণা, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন তাদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের বিনিময়ে লভ্যাংশের এমন একটি বিশাল অংশ দাবি করেছিল, যা দেশীয় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটেও লাভজনক মনে হয়নি।

 

২০০৭ সালে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার মাধ্যমে যে স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছিল, প্রায় দুই দশক পর ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক আসর সামনে রেখেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে ব্যর্থ হলো।

 

- সিএনএন