শনিবার ভোর ৬টার ঠিক আগে মেলবোর্নের কার্লটন এলাকার নিকলসন স্ট্রিট এবং ভিক্টোরিয়া প্যারেডের সংযোগস্থলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চারজন কিশোর একটি চুরি করা মাজদা-৩ গাড়িতে করে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির সাথে তাদের সজোরে ধাক্কা লাগে।
তীব্র এই সংঘর্ষের পরপরই চুরি করা গাড়িতে থাকা দুই কিশোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বাকি দুই কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং ১৫ বছর বয়সী অপর এক কিশোর তুলনামূলক সামান্য আঘাত পেয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আহত ওই দুই কিশোরকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় এক অভাবনীয়, অনভিপ্রেত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। পুলিশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে যাওয়ার পথে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে জীবন রক্ষায় নিয়োজিত দায়িত্বরত একজন প্যারামেডিক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর অতর্কিত ও সহিংস হামলা চালায়।
এই আকস্মিক হামলায় ওই স্বাস্থ্যকর্মী শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে তাকেও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। অন্যদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত ভক্সওয়াগেন গাড়িতে থাকা ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং ৭৬ বছর বয়সী এক নারীকে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা দুজনেই পশ্চিম ভিক্টোরিয়ার তেরাং এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারকারী স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনার পর মেলবোর্ন পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তাদের নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং যে দুই কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে নিবেদিতভাবে কাজ করছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, দুর্ঘটনা কবলিত ওই মাজদা-৩ গাড়িটি গত ২১ মার্চ মুলগ্রেভ এলাকা থেকে চুরি করা হয়েছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থে এই মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থেকে থাকলে অথবা কারো কাছে ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে, তাদের দ্রুত ‘ক্রাইম স্টপার্স’-এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জরুরি ও বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চুরি করা গাড়ি নিয়ে কিশোর অপরাধীদের এই বেপরোয়া চলাফেরা এবং চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কর্মীর ওপর এমন হামলার ঘটনা স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।