পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তির নাম সুধীর কুমার চৌহান। মাঝ আকাশে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ যাত্রীদের, বিশেষ করে নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার স্কুট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই চরম অমানবিক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি যখন আকাশে উড্ডয়নরত, তখন ওই নারী যাত্রী তার পাশে বসা অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বারা যৌন হেনস্থার শিকার হন।
ভুক্তভোগী নারী তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিষয়টি বিমানের কেবিন ক্রুদের অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিমানের কর্মীরা দ্রুত পেশাদারিত্বের সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই নারীকে তৎক্ষণাৎ অন্য একটি নিরাপদ আসনে সরিয়ে নেন।
একইসঙ্গে তারা গন্তব্যের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি সম্পর্কে আগাম বার্তা দিয়ে রাখেন। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর থেকে ফ্লাইটটি পার্থ বিমানবন্দরে অবতরণ করা পর্যন্ত বিমানের কর্মীরা অভিযুক্ত সুধীর কুমার চৌহানের ওপর কড়া ও নিবিড় নজরদারি বজায় রাখেন।
পার্থ বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার পরপরই আগে থেকে প্রস্তুত থাকা পুলিশ সদস্যরা সরাসরি বিমানে প্রবেশ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেন। তার বিরুদ্ধে সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং অশালীন আচরণের একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এএফপি-এর ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট পিটার ব্রিন্ডাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, বিমানে ভ্রমণের সময় প্রত্যেক যাত্রীরই সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে যখন দীর্ঘ ফ্লাইটে অন্য যাত্রীদের খুব কাছাকাছি অবস্থান করতে হয়।
যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্লাইটের ভেতরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা অশালীন আচরণের শিকার হলে তারা যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেবিন ক্রু বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
অস্ট্রেলীয় পুলিশ বিমানবন্দর বা বিমানের ভেতরে যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনরায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় পত্রিকা ‘দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশের কড়া হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী শুক্রবার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পার্থ পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ওই নারীকে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা এবং সব ধরনের আইনি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে অস্ট্রেলিয়ার কঠোর দণ্ডবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।