সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি হেলেন হেইন্সের ওপর হামলার পর বড় পরীক্ষার মুখে অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্র

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

এমপি হেলেন হেইন্সের ওপর হামলার পর বড় পরীক্ষার মুখে অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্র
ছবি : এবিসি

"এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না।"-অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের উচ্চারিত এই একটি মাত্র বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ হামলার প্রকৃত ও শিউরে ওঠার মতো রূপ, যে ঘটনা গোটা অস্ট্রেলিয়াজুড়ে এক তীব্র আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগের ঢেউ তুলে দিয়েছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আঞ্চলিক শহর ওয়াঙ্গারাত্তায় প্রতিদিনের মতো নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্স। কিন্তু সেই সাধারণ দিনটিই তার জীবনের অন্যতম এক বিভীষিকাময় দিনে পরিণত হয়, যখন নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের ঠিক বাইরে একটি বিশাল ফোর-হুইল ড্রাইভ বা চার চাকার গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা মারে।

 

২০১৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডি নির্বাচনী এলাকার জনগণের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা পঁয়ষট্টি বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নারী রাজনীতিক এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত নিবিড় ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।

 

হামলার পরপরই সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির এই ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা মতাদর্শিক ইন্ধন ছিল কি না, তা এখনই চূড়ান্তভাবে উপসংহারে পৌঁছানোর মতো সময় আসেনি, তবে কেবল এমন একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার আশঙ্কাই অস্ট্রেলিয়ার সচেতন নাগরিকদের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

 

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনপ্রতিনিধিদের ওপর এমন প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নাগরিকরা তাদের স্থানীয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে দেখতেই বেশি অভ্যস্ত।

 

স্থানীয় সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করা, মাঠে বসে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করা কিংবা রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় নাগরিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করা-এগুলো অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন, ভ্রাম্যমাণ কার্যালয় পরিচালনা করেন, বিভিন্ন স্থানীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং সাধারণ ভোটাররা যেন তাদের যেকোনো সমস্যা, উদ্বেগ বা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কথা বলতে পারেন, সেজন্য নিজেদের সবসময় সহজলভ্য রাখেন।

 

রাজনীতিকদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা বা সংশয় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তাদের এই অবারিত প্রবেশাধিকার ও সহজলভ্যতা অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান এক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।

 

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হেলেন হেইন্সের ওপর এই নির্মম হামলার পর গণতন্ত্রের সেই মহৎ শক্তিটিই এখন এক চরম ও কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এই মর্মান্তিক হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর যখন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গণমাধ্যমের সামনে কথা বলছিলেন, তখন তাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল, যা খুবই স্বাভাবিক।

 

তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিটি প্রান্ত থেকে, দলমত নির্বিশেষে সব নেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা হেলেন হেইন্সের ওপর হওয়া এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিজেদের গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন এবং এই বর্ষীয়ান সংসদ সদস্যের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেছেন।

 

পুলিশি তদন্তের বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করা থেকে সতর্কতার সঙ্গে বিরত থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তাপ ও তিক্ততা কমিয়ে আনার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি বারবার এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যদের যেকোনো ধরনের ভীতি, হুমকি বা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা রাজনৈতিক বিষোদ্গারের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়েও সমগ্র জাতিকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

 

তবে রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে এই গভীর উদ্বেগ কেবল প্রধানমন্ত্রীর একার নয়। গত কয়েক বছর ধরেই অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ দেশের রাজনীতিক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং তাদের কার্যালয়ের কর্মীদের লক্ষ্য করে বাড়তে থাকা আশঙ্কাজনক হুমকির বিষয়ে ক্রমাগত সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।

 

সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। গত অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ফেডারেল সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং সুরক্ষিত সরকারি স্থাপনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত ভীতিপ্রদর্শন, হয়রানি, উপদ্রব বা আপত্তিকর আচরণের মোট এক হাজার ৬৭টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

 

এই সংখ্যাটি তার আগের বছরের তুলনায় শতকরা বারো ভাগ বেশি। আরও আতঙ্কের বিষয় হলো, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৫৫টি, অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে জনপ্রতিনিধিদের ওপর হুমকির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

 

যদিও এই অভিযোগগুলোর প্রতিটিই যে সহিংস হামলার নিশ্চিত হুমকি, এমনটা নয় এবং এই পরিসংখ্যান কেবল সংসদ সদস্য বা সিনেটরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তবুও এই তথ্যগুলো জনসমক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত যে মাত্রায় চরম শত্রুতা ও বিদ্বেষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তার ভয়াবহতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।

 

গত বছরের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তৎকালীন কমিশনার রিস কারশ একটি সংসদীয় কমিটির সামনে আসন্ন ফেডারেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিকদের ওপর নেমে আসা নানামুখী হুমকির বিষয়ে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও সতর্কতামূলক এক বিবৃতি প্রদান করেছিলেন।

 

তিনি সেই সময় প্রকাশ করেছিলেন যে, কিছু পুরুষ রাজনীতিকের কাছে ডাকযোগে সরাসরি বুলেটের খাম পাঠানো হয়েছিল। অন্যদিকে, নারী সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত বিকৃত ও বিরক্তিকর ভাষায় গালাগাল করা হয়েছিল, যার মধ্যে যৌন সহিংসতার মতো জঘন্য হুমকিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই হুমকির মাত্রা এতটাই ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে, রাজনীতিকদের নিষ্পাপ শিশুসন্তানদেরও এই আক্রোশের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। চলতি মাসেই অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের বর্তমান কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।

 

তিনি মনে করেন, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকরা ভবিষ্যতেও সেই সব মানুষের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন, যাদের মনে রাষ্ট্র বা ব্যবস্থার প্রতি কোনো ধরনের চাপা ক্ষোভ বা অভিযোগ রয়েছে।

 

তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কাজ করা তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইদানীং এমন অনেক ঘটনা দেখতে পাচ্ছেন, যেগুলোর পেছনে মূলত ‘মতাদর্শগত’ কারণ রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি নতুন আরেকটি বিপজ্জনক নিয়ামকও আবির্ভূত হয়েছে, আর তা হলো ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিযোগ’।

 

ব্যারেটের মতে, সমাজের যে মানুষগুলো নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও একাকী মনে করছেন, তারা তাদের জীবনের কোনো অর্থ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য যেকোনো কিছুর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চাইছেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা এখানে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। মানুষের মনের ভেতরের এই ক্ষোভ বা অভিযোগই মূলত তাদের চালিত করছে এবং পরবর্তীতে তারা তাদের এই ক্ষোভকে যুক্ত করার জন্য এক ধরনের মতাদর্শগত অনুপ্রেরণা বা অজুহাত খুঁজছে।”

 

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কেন এই পরিস্থিতি নিয়ে এত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, তা প্রমাণ করার মতো উদাহরণের কোনো অভাব দেশটিতে নেই। অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন-এর শীর্ষ নেত্রী পলিন হ্যানসন প্রকাশ্যে তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের দিকে ধেয়ে আসা ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে কথা বলেছেন।

 

পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্ড্রু হাস্টি এমন মাত্রার গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন, যা তার ব্যক্তিগত বাসভবন এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা মোতায়েন করতে প্রশাসনকে বাধ্য করেছে।

 

মাত্র গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির মন্ত্রী অ্যান আলি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তিনি মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোট উনিশটি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন। অনেক রাজনীতিক এমন সব গুরুতর ফৌজদারি হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করতে হয়েছে।

 

চলতি বছরের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফোনে একজন ফেডারেল সংসদ সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

গত বছর ভিক্টোরিয়া রাজ্যেও আলাদা আলাদা কয়েকটি ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল সংসদ সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঘৃণ্য ইহুদিবিদ্বেষী গালিগালাজও যুক্ত ছিল।

 

জনপ্রতিনিধিদের ওপর নেমে আসা এই শিউরে ওঠার মতো হুমকি ও আক্রমণগুলো কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শিক বিভাজন বা কোনো একক বিতর্কিত নীতিগত বিতর্কের মধ্যেও আটকে নেই।

 

এমনকি রাজনীতিকরা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যে বেনামি গালিগালাজ বা অপমানের শিকার হয়ে আসছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাকেও বহুদূর ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও হুমকির এই ক্রমবর্ধমান উত্থান আজ অস্ট্রেলিয়ার পুরো জাতির সামনে এক গভীর ও মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে-জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই প্রতিনিধিরা কি আদৌ নিরাপদে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, নাকি তাদের সবসময় এক অদৃশ্য আতঙ্কের ছায়াতলে বসবাস করতে হবে? এই প্রশ্নটির উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার আগামী দিনের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।

 

- এবিসি নিউজ