গবেষণায় দেখা গেছে, লন্ডনসহ অন্যান্য ধনী শহরগুলোর তুলনায় ব্র্যাডফোর্ড, ব্ল্যাকপুল ও নিউপোর্টের মতো শহরগুলোতে খালি দোকানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। লন্ডনে যেখানে খালি দোকানের হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ, সেখানে ব্র্যাডফোর্ড বা উইগানের মতো শহরগুলোতে এই হার ১৬ শতাংশের উপরে। 'সেন্টার ফর সিটিজ'-এর প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু কার্টার বলেন, "আমাদের গবেষণা দেখিয়েছে যে সব বাণিজ্যিক কেন্দ্র ব্যর্থ হচ্ছে না। যেখানে হচ্ছে, তার কারণ শুধু বাহ্যিক নয়, অর্থনৈতিক। দোকানের সম্মুখভাগ, ভাড়া বা পার্কিং সংক্রান্ত নীতিগুলো মূল সমস্যাকে এড়িয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, "সমস্যাগ্রস্ত শহর কেন্দ্রগুলোতে দোকানের সংখ্যা বেশি, কিন্তু মানুষের সংখ্যা কম। স্থানীয় বাসিন্দাদের যদি খরচ করার মতো অর্থ না থাকে বা শহরে আসার কোনো কারণ না থাকে, তবে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।"
প্রতিবেদনে ধনী ও দরিদ্র অঞ্চলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন তুলে ধরা হয়েছে। ইয়র্ক বা লন্ডনের মতো ধনী শহরগুলিতে, বাসিন্দাদের হাতে বাড়তি অর্থ থাকায় তারা খাওয়া-দাওয়া এবং অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যকলাপে ব্যয় করতে পারেন। ফলে অনলাইন শপিংয়ের কারণে খুচরা বিক্রির ক্ষতি হলেও, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের মতো ব্যবসার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো টিকে থাকছে। এই শহরগুলোতে প্রতি ৪ পাউন্ডের মধ্যে ১ পাউন্ডই খরচ হয় বাইরে খাওয়ার পেছনে। বিপরীতে, ব্র্যাডফোর্ড বা উইগানের মতো দরিদ্র শহরগুলোতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। সেখানে প্রতি ১০ পাউন্ডের মধ্যে মাত্র ১ পাউন্ড এই খাতে খরচ হয়।
গবেষণাটি বলছে, একটি ধুঁকতে থাকা বাণিজ্যিক কেন্দ্র একটি দুর্বল স্থানীয় অর্থনীতির ফল, এর কারণ নয়। তাই এর সমাধানে ব্যবসায়িক কর কমানোর মতো পদক্ষেপের চেয়েও বেশি প্রয়োজন শহরে ভালো বেতনের চাকরি তৈরি করা এবং আবাসন ব্যবস্থা উন্নত করা, যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং তারা শহরে ফিরে আসে।
---