শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

"যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এখন ডিটেনশন সেন্টারে, আমাদের খালাকে মুক্তি দিন"

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৫, ০২:০৭ এএম

"যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এখন ডিটেনশন সেন্টারে, আমাদের খালাকে মুক্তি দিন"
ফাইল ছবি

"যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসে এখন তাকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে... আমরা আমাদের খালাকে ফেরত চাই, আমরা তার মুক্তি চাই।" — এই আকুতি সিডনিতে বসবাসরত একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের, যাদের ৬১ বছর বয়সী স্বজন মাহা আলমাসরিকে সম্প্রতি আটক করেছে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজা থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন মাহা। তিনি সিডনিতে তার ছেলের বাড়িতে থাকছিলেন এবং একটি সুরক্ষা ভিসার জন্য আবেদন করার পর তাকে একটি ব্রিজিং ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে সিডনির ভিলাউড ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যায়।

 

পরিবারকে জানানো হয়েছে, 'ক্যারেক্টার টেস্ট' বা চরিত্র পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় মাহা'র ভিসা বাতিল করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা সংস্থা (ASIO) যদি কোনো ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, তবে তিনি চরিত্র পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। কিন্তু ঠিক কী কারণে মাহা আলমাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সে বিষয়ে সরকার পরিবারকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন, যিনি তাদের এলাকারই সংসদ সদস্য। মাহা'র ভাইপো মোহাম্মদ আলমাসরি বলেন, "তিনি কেন নিরাপত্তা পরীক্ষায় ফেল করলেন? দয়া করে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিন, টনি বার্ক। আমরা ভেবেছিলাম তিনি আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন।"

 

পরিবারটি জানিয়েছে, মাহা ডিটেনশন সেন্টারে একা বোধ করছেন, মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছেন। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ দেশে আছেন যেখানে সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ঘটনায় সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং এর প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে পরিবারের দেওয়া তথ্যের মিল নেই এবং এই মুহূর্তে তারা এর বেশি কোনো মন্তব্য করবে না।

 

---

গার্ডিয়ান