তবে, রাজ্যের প্রিমিয়ার পিটার মালিনাস্কাস এই প্রতিশ্রুতিকে তার দেখা "অন্যতম বেপরোয়া, বিপজ্জনক নীতি ঘোষণা" হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা মিঃ টারজিয়া জানিয়েছেন, তার এই দীর্ঘমেয়াদী নীতির প্রথম ধাপে, প্রথমবার গৃহ ক্রেতাদের (first home buyers) জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়া হবে। ১০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত মূল্যের পুরোনো বা বিদ্যমান বাড়ি (existing homes) কেনার ক্ষেত্রে তাদের স্ট্যাম্প ডিউটি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর লিবারেল সরকার ধীরে ধীরে স্ট্যাম্প ডিউটির ট্যাক্স ব্র্যাকেটগুলিকে সামঞ্জস্য করতে শুরু করবে এবং আগামী ১৫ বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে, এই কর সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হবে। মিঃ টারজিয়া যুক্তি দেন, "স্ট্যাম্প ডিউটি একটি অত্যন্ত অকার্যকর কর। এটি তরুণদের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন করে তোলে এবং বয়স্কদের জন্য ছোট বাড়িতে (downsize) স্থানান্তর হওয়া আরও কঠিন করে তোলে। এই পরিবর্তনগুলি ধীরে ধীরে হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এটি কেবল সুসংবাদই বয়ে আনবে।"
এই নীতির আর্থিক দিক নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মিঃ টারজিয়া স্বীকার করেছেন যে আর্থিক ও মূলধন লেনদেনের ওপর ধার্য এই স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে রাজ্য সরকারের বার্ষিক প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হয়। তবে তিনি উদ্ধৃতি বলেছেন, এই রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য তার নেতৃত্বে কোনো নতুন কর আরোপ করা হবে না বা সম্মুখসারির কোনো পরিসেবা (frontline services) কর্তন করা হবে না। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য অর্থনৈতিক পরিধিকে (economic pie) সংকুচিত করা নয়, বরং একে আরও বড় করা।"
অন্যদিকে, প্রিমিয়ার পিটার মালিনাস্কাস এই পরিকল্পনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি এবিসি রেডিও অ্যাডিলেডকে বলেন, লিবারেলদের এই ঘোষণায় বছরে ১.৬ থেকে ২.৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাবে রাজ্য। তিনি এই ক্ষতির মাত্রাকে তুলে ধরে বলেন, "এই পরিমাণ অর্থ সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সম্পূর্ণ পুলিশ বাহিনীর বাজেটের দ্বিগুণের সমান।"
মালিনাস্কাস এই পদক্ষেপকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের বিতর্কিত মিনি-বাজেটের সাথে তুলনা করেন, যা বাজারে ব্যাপক ধস নামিয়েছিল। তিনি বলেন, "তিনি (টারজিয়া) একটি জাদুকরী অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যেখানে বিলিয়ন ডলার রাজস্ব কেটে ফেলার পরও অন্য কোনো উৎস থেকে জাদুকরীভাবে অর্থ আসবে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং একটি আন্তঃপ্রজন্মীয় ক্ষতি করবে।"
প্রিমিয়ার আরও সতর্ক করেন যে, এই নীতি রাজ্যের আবাসন সংকট সমাধানে ব্যর্থ হবে। লেবার সরকারের বর্তমান নীতিতে, প্রথমবার ক্রেতারা শুধু নতুন বাড়ি কিনলে বা নির্মাণ করলেই স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড় পান, যা রাজ্যে নতুন আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করে। মালিনাস্কাসের মতে, লিবারেলদের প্রস্তাব পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়ায় প্রথমবার ক্রেতাদেরকে বাজারের বিদ্যমান বাড়ির মালিকদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় ফেলবে, যা আবাসন সংকটকে সমাধান না করে বরং সরবরাহ সংকটকে আরও তীব্র করবে।