শনিবার সকাল ১০টার কিছু আগে সিডনির ম্যাককুয়ারি স্ট্রিটে সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে কালো পোশাকে সজ্জিত প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী সমবেত হয়। 'হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া' নামক এই গোষ্ঠীটি 'ইহুদি লবি' (Jewish lobby) বিলুপ্ত করার দাবিতে ব্যানার প্রদর্শন করে। পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশটি প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।
এনএসডব্লিউ পুলিশের কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন নিশ্চিত করেছেন যে, গত ২৮ অক্টোবর 'হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া' গোষ্ঠীটি এই সমাবেশের পরিকল্পনা জানিয়ে পুলিশকে একটি 'ফর্ম ১' (অবহিতকরণ পত্র) জমা দেয়। রাজ্যের 'সামারি অফেন্সেস অ্যাক্ট' (সংক্ষিপ্ত অপরাধ আইন) অনুযায়ী, পুলিশকে কমপক্ষে সাত দিন আগে অবহিত করা হলে এবং আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ না হলে, একটি গণসমাবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে "অনুমোদিত" বলে বিবেচিত হয়। কমিশনার ল্যানিয়ন বলেন, স্থানীয় পুলিশ কমান্ড এই আবেদনপত্র পর্যালোচনা করে সমাবেশটিতে আপত্তি জানানোর মতো কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।
তবে, এই ঘটনায় রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও প্রকট হয়ে উঠেছে। পুলিশ কমিশনার ল্যানিয়ন স্বীকার করেছেন যে, একটি "অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ত্রুটির" কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিক্ষোভের বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং তিনি রাজ্য সরকারকে সময়মতো জানাতে ব্যর্থ হন। তিনি এই সমাবেশকে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজ্যের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) ক্রিস মিনস এই ঘটনাকে "বেদনাদায়ক" এবং "ঘৃণা, বর্ণবাদ ও ইহুদি-বিদ্বেষের মর্মান্তিক প্রদর্শন" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, "আপনি এই ঘৃণ্য ব্যক্তিদের এক ইঞ্চি ছাড় দিলে তারা এক মাইল দখল করে নেবে। আমি তাদের সরকার এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিতে চাই যে, সিডনিতে নব্য-নাৎসিদের কোনো স্থান নেই।"
প্রিমিয়ার মিনস আরও জানান, "সিডনির রাস্তায় এই ধরনের নগ্ন ঘৃণা ও বর্ণবাদ" প্রতিরোধ করার জন্য পুলিশকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা, তা সরকার গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। এই বিক্ষোভটি রাজ্যের নতুন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আইনের বিরুদ্ধেও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত আগস্টে কার্যকর হওয়া 'ক্রাইমস অ্যাক্ট'-এর 'ধারা ৯৩জেডএএ' অনুযায়ী, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়ানো একটি ফৌজদারি অপরাধ।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তারা সমাবেশের অনলাইন ফুটেজ এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনা করে দেখছেন যে এই আইনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা। এনএসডব্লিউ ইহুদি বোর্ড অফ ডেপুটিজের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ওসিপ এই সমাবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "অশুভকে মোকাবিলা না করে উপেক্ষা করলে তা একসময় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। আজ যে ঘৃণ্য চিত্র এবং বিদ্বেষের জঘন্য শব্দ উচ্চারিত হলো, তা আমাদের সমাজে, বিশেষ করে আমাদের গণতন্ত্রের হৃদকেন্দ্রে, কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"