এই প্রেক্ষাপটে নিজের এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই সিনেটর। ঘটনার সূত্রপাত ব্যালারাটের বাসিন্দা শন ডেভিড শারম্যান নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, যাকে চলতি বছরের শুরুতে সিনেটর পেম্যানকে ইমেইলে বর্ণবাদী মৃত্যুহুমকি পাঠানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। সোমবার আদালত শারম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৮ মাসের ‘কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার’ বা সংশোধনমূলক দণ্ড প্রদান করে।
রায় ঘোষণার সময় ম্যাজিস্ট্রেট জুলিয়া বার্লিং অনলাইনে ক্রমবর্ধমান ট্রলিং এবং অপমানজনক আচরণের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আদালতের এই রায়কে একটি দৃষ্টান্তমূলক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। সিনেটর পেম্যানের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের রায়ের খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পর তাঁর পেজে সত্যিকারের অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়া বট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আক্রমণের ঝড় ওঠে।
সেখানে বর্ণবাদী, ইসলামবিদ্বেষী এবং চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর বলেন, “আমি খুশি যে অপরাধী সাজা পেয়েছে এবং তার মতো ‘কি-বোর্ড যোদ্ধাদের’ জানা উচিত যে প্রতিটি কাজেরই পরিণতি আছে। কিন্তু আদালতের রায়ের পরেও যখন দেখি মানুষ আরও বেপরোয়া হয়ে হিংসাত্মক মন্তব্য করছে, তখন তা সত্যিই হতাশাজনক।”
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে লেখা একটি চিঠিতে সিনেটর পেম্যান এই জঘন্য অনলাইন আচরণের নিন্দা জানানোর অনুরোধ করেন। তিনি বিশেষ করে তাঁর অফিসের কর্মীদের মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যাদের প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ কদর্য বার্তাগুলো যাচাই-বাছাই করতে হয়। ফাতিমা পেম্যান বলেন, “রাজনীতির ময়দানে থেকে আমি হয়তো এসব সয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং নিজেকে শক্ত করে নিয়েছি।
কিন্তু আমার দলের তরুণ কর্মীদের জন্য এটা মেনে নেয়া অন্যায়। আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী আমার কর্মীদের সুরক্ষায় এবং তাদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে আমার এই আবেদনে সাড়া দেবেন।” সিনেটর আরও উল্লেখ করেন যে, রায়ের পর অনেক সাধারণ অস্ট্রেলীয় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু ঘৃণা ছড়ানকারীদের চিৎকারে সেই সমর্থনের সুর চাপা পড়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচরণকারী প্রতিটি মানুষের সমস্যা।
তিনি বলেন, “কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। কেবল নিজের মতো করে বাঁচার অপরাধে কাউকে এমন নির্যাতন সহ্য করতে হবে কেন?” সিনেটর পেম্যান এই সমস্যা সমাধানে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ওপর জোর দেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনের ক্ষমতা ও এখতিয়ার বাড়ানোর দাবি জানান। ই-সেফটি কমিশনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রত্যেকেই অনলাইন সহিংসতা থেকে মুক্ত থাকার অধিকার রাখেন।
প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘনকারী আচরণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, শারীরিক ক্ষতির গুরুতর হুমকিগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।