ভিক্টোরিয়ার জিলং শহরের উত্তরাঞ্চলীয় নরলেনের বাসিন্দা ৫৩ বছর বয়সী আমান্ডা মেন্টিপ্লে এই সংকটের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। চার বেডরুমের একটি জরাজীর্ণ বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি। গত চার বছরে তার বাড়ির ভাড়া সপ্তাহে ৩৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আমান্ডা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভাড়া আরও বাড়লে তাকে বাধ্য হয়ে শহর থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত কোনো অঞ্চলে চলে যেতে হবে, যেখানে জীবনযাত্রার মান আরও কঠিন হতে পারে। আমান্ডার মতো হাজারো অস্ট্রেলীয় এখন একই ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
এসজিএস ইকোনমিক্স অ্যান্ড প্ল্যানিং-এর একাদশ বার্ষিক ‘রেন্টাল এফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স’ বা ভাড়া সক্ষমতা সূচকে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের আঞ্চলিক এলাকাগুলো এখন সিডনির চেয়েও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। মূলত গ্রামীণ এলাকায় মানুষের আয়ের তুলনায় ভাড়ার হার অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে পেনশনভোগী, একক অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং ন্যূনতম মজুরিতে কর্মরত মানুষদের জন্য বাসা ভাড়া করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের পরিবারের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হচ্ছে শুধুমাত্র বাড়ি ভাড়ার পেছনে। এসজিএস ইকোনমিক্সের প্রধান এলেন উইট বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির সময় শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আঞ্চলিক এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।
এদের অনেকেরই ক্রয়ক্ষমতা ও আয় গ্রামীণ বাসিন্দাদের তুলনায় বেশি, যা স্থানীয় ভাড়ার বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং স্থানীয় ভাড়ার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী স্থানীয় বাসিন্দারা এখন আবাসন সংকটের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, সিডনি, মেলবোর্ন এবং অ্যাডিলেডের মতো বড় শহরগুলোতে ভাড়ার হার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই শহরগুলোতে ভাড়ার সক্ষমতা আর অবনতির দিকে যায়নি। তবে পার্থের পরিস্থিতি এখনো বেশ নাজুক, যেখানে খনি খাতে বিনিয়োগ ও আবাসনের উচ্চ চাহিদার কারণে ভাড়ার সক্ষমতা আরও ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং এটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘ন্যাশনাল শেল্টার’-এর জন এঙ্গেলার মনে করেন, সরকারের আবাসন তহবিল বা ‘হাউজিং অস্ট্রেলিয়া ফিউচার ফান্ড’-এর মাধ্যমে আঞ্চলিক এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। গ্রাটান ইনস্টিটিউটের মতে, অধিক হারে সামাজিক আবাসন নির্মাণ, সুপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভাড়া সহায়তা বৃদ্ধিই হতে পারে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান।