৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত রিকি অ্যাটকিনসন মুরুপনা এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে গাড়ি চুরির পাশাপাশি অবুঝ এক শিশুকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর একটি লাল রঙের ভক্সওয়াগন (Volkswagen) গাড়ি চুরি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১,৫০০ ডলার।
চুরির সময় গাড়িটির ভেতরে মালিকের ১৫ মাস বয়সী শিশু সন্তান অবস্থান করছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, গাড়িটি নিয়ে পালানোর সময় অভিযুক্ত অ্যাটকিনসন শিশুটিকে গাড়ি থেকে বের করে একটি কার পার্কিং এলাকায় পরিত্যক্ত পিচবোর্ডের বাক্সে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রেখে যান। প্রসিকিউশনের মতে, এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ শিশুটির জীবনকে মারাত্মক বিপদের মুখে ফেলেছিল এবং তার গুরুতর আহত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
সৌভাগ্যবশত শিশুটিকে পরবর্তীতে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মামলাটির শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতকে জানান, গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে তার মক্কেল পিঠে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক পুনর্বাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসেসমেন্ট চলছে। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, এই স্বাস্থ্যগত মূল্যায়নের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তারা আদালতের কাছে জামিনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে অপরাধের ধরণ, শিশুর জীবনের ঝুঁকি এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কোনো জামিন প্রদান করেনি। বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ডে) রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শেপারটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত আইনজীবীরা ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। শিশুটিকে যে অবস্থায় এবং যেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম এবিসি শেপারটনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে পার্কিং লটের একটি সাধারণ কার্ডবোর্ডের বাক্সে পাওয়া গিয়েছিল, যা যেকোনো অভিভাবকের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। চুরির উদ্দেশ্য থাকলেও এর ফলে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারত, তা নিয়ে আদালত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিচারক আগামী ১৫ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ততদিন পর্যন্ত অভিযুক্ত রিকি অ্যাটকিনসনকে কারাগারেই থাকতে হবে। এই ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটিতে শিশুদের নিরাপত্তা এবং গাড়ি চুরির সময় অপ্রত্যাশিত বিপদ সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ন্যায়বিচারের দিকে এখন সবার নজর নিবদ্ধ রয়েছে।