এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৩২ বছর বয়সী জর্ডান ডেসমন্ড চার্লস ওয়েবারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মাত্রা বৃদ্ধি করে মৃত্যুর কারণ ঘটানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাউথপোর্টের স্কারবোরো এবং রেলওয়ে স্ট্রিটের সংযোগস্থলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত বৃদ্ধ এবং অভিযুক্ত যুবক জর্ডান ওয়েবার একে অপরের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, সেই মুহূর্তেই জর্ডান ওয়েবার হঠাৎ করেই ওই বৃদ্ধের মুখে সজোরে ঘুষি মারেন। অতর্কিত এই আঘাতের ফলে ভুক্তভোগী ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান এবং তার মাথা সজোরে ফুটপাতের শক্ত মেঝের সঙ্গে আঘাত খায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সিএসআই ক্লাবের কাছে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে গোল্ড কোস্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘ দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন অভিযুক্ত জর্ডান ওয়েবার পালিয়ে না গিয়ে নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কুম্বাবাহর বাসিন্দা এই যুবকের বিরুদ্ধে প্রথমে ‘গুরুতর শারীরিক ক্ষতি’ সাধনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
কিন্তু ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর সেই অভিযোগ পরিবর্তন করে ‘আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো’ বা স্ট্রাইকিং কজিং ডেথ-এর ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে ‘ওয়ান-পাঞ্চ’ বা এক ঘুষিতে মৃত্যু ঘললে সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এই ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া এবং একইসঙ্গে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তুচ্ছ ঘটনার জেরে সহিংস আচরণ এবং তার ফলে একটি মানুষের প্রাণহানি-বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত জর্ডান ওয়েবার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং বুধবার তাকে সাউথপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। আদালতের মাধ্যমেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।