২৩ বছর বয়সী ইশফাকুর রহমান চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং ঘটনার মাত্র তিন মাস আগে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে ডারউইনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ৩ মে ভোরে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। মামলার অভিযুক্ত তিভি দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা ব্রেন্ডন ক্যান্টিলা আদালতে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি নরহত্যার (ম্যানসলটার) দায় স্বীকার করেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেছেন যে ইশফাকুর তার আঘাতেই মারা গেছেন, তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ছিল না। বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, ইশফাকুরকে আঘাত করার সময় অভিযুক্ত ক্যান্টিলা গুরুতর মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের সামনে ঘটনার পূর্বের মুহূর্তগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আদালতকে জানানো হয় যে, ঘটনার রাতে ইশফাকুর এবং তার রুমমেট টিএম শফি সামি কাজ শেষে মিলনারে তাদের বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক তখনই অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। স্বাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইশফাকুরের রুমমেট শফি জানান, অভিযুক্ত ক্যান্টিলা তাদের কাছে ধূমপানের জন্য সিগারেট চেয়েছিলেন। যখন তারা জানান যে তাদের কাছে সিগারেট নেই, তখন অভিযুক্ত তাদের উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন এবং তারাও পাল্টা জবাব দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সে সময় ক্যান্টিলা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি এই এলাকায় আবার ফিরে আসবেন। সেই হুমকির বাস্তবায়ন ঘটে মর্মান্তিকভাবে। গভীর রাতে ক্যান্টিলা ফিরে আসেন, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো পরীক্ষা করেন এবং বাড়ির উঠোন থেকে একটি ইটের টুকরো সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি ইশফাকুরের ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে তিনি অবিলম্বে জ্ঞান হারান।
ভুক্তভোগী যখন খিঁচুনি দিচ্ছিলেন, তখন ক্যান্টিলা একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) দিয়ে তাকে আবারও আঘাত করেন। আদালতে ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট মারিয়েন টিয়েমেনসমা জানান, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে ইশফাকুরের মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল এবং তার মাথার খুলি ও মুখের হাড় একাধিক স্থানে ভেঙে গিয়েছিল। জুরিদের সামনে পুলিশের ধারণ করা অপরাধস্থলের একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, রক্তমাখা সেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি একটি বালতির নিচে লুকানো অবস্থায় ছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ সিনিয়র কনস্টেবল ম্যাট হিউজ জানান, পুলিশ হামলাকারী ইটটি খোঁজার চেষ্টা করলেও তা আর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছিল যে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে তার পূর্ণ ধারণা ছিল না। ওই বাড়িতে ইশফাকুরসহ মোট দশজন বসবাস করতেন। বিবাদী পক্ষ বুধবার তাদের সাক্ষী উপস্থাপন করবে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই মামলার বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।