এই উদ্যোগ সফল হলে এটি হবে ১ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত তাসমানিয়ার বৃহত্তম স্থানীয় সরকার এলাকা। হোবার্ট সিটি কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সভায় এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এই সংযুক্তিকরণের সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল নিয়ে একটি বিস্তারিত এবং তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করছে একটি প্রধান শর্তের ওপর-গ্লেনোরকি কাউন্সিলকেও তাদের বাসিন্দাদের জনমত যাচাই বা 'ইলেক্টর পোল'-এ সম্মত হতে হবে। কাউন্সিলর জেমা কিটসাসের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ৭-৪ ভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে আল্ডারম্যান মার্টি জুকোর কেবল প্রাথমিক আলোচনার প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। জুকো আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, গণভোটের শর্ত জুড়ে দিয়ে মূলত এই উদ্যোগটিকে ব্যর্থ করার কৌশল করা হয়েছে।
দুই শহরের মেয়ররাই একীভূতকরণের ধারণার প্রতি নীতিগতভাবে ইতিবাচক হলেও, প্রক্রিয়াটি নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। গ্লেনোরকির মেয়র স্যু হিকি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এই একীভূতকরণ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তবে তিনি এবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গণভোট বা ইলেক্টর পোলের তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, এ ধরনের ভোটাভুটি সমাজে অহেতুক উত্তেজনা, বিভাজন এবং ভুল তথ্যের বিস্তার ঘটায়।
তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষকে সরাসরি ভোটের সুযোগ দেওয়ার চেয়ে প্রশাসনিক আলোচনার মাধ্যমেই এটি সমাধান করা শ্রেয়। অন্যদিকে, হোবার্টের লর্ড মেয়র অ্যানা রেনল্ডস প্রস্তাবটি সমর্থন করলেও তিনি বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জানান, বৃহত্তর শহরের ধারণাটি আকর্ষণীয় হলেও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা জরুরি।
রেনল্ডস জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো একীভূতকরণই দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। তবে সেই সিদ্ধান্তটি যাতে আবেগের বশবর্তী না হয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৭ সালের একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, দুই কাউন্সিল এক হলে প্রশাসনিক খরচ কমবে এবং নতুন কাউন্সিলের আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
২০২৩ সালের স্থানীয় সরকার পর্যালোচনা প্রতিবেদনেও হোবার্ট এবং গ্লেনোরকির মধ্যে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক মিলের কথা উল্লেখ করে একটি 'ওয়েস্টার্ন শোর' কাউন্সিল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। ডারওয়েন্ট নদীর অপর পাড়ের ক্লারেন্স সিটির মেয়র ব্রেন্ডন ব্লমলিও নীতিগতভাবে একীভূতকরণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ৬ লাখের কম জনসংখ্যার তাসমানিয়ায় ২৯টি আলাদা কাউন্সিল থাকা অযৌক্তিক। এখন সবার দৃষ্টি গ্লেনোরকি কাউন্সিলের ওপর, কারণ তাদের সম্মতির ওপরই নির্ভর করছে এই ঐতিহাসিক সংযুক্তিকরণ প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ।