ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এই তদন্তে কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার এবং ছায়া অর্থনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ফাঁকি দেওয়ার এক উদ্বেগজনক চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই অভিযানে ব্রোকলি, পেঁয়াজ, কুমড়া ও শ্যালট উৎপাদনকারী খামার এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে হানা দেন সরকারি কর্মকর্তারা।
অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিস (এটিও), ফেয়ার ওয়ার্ক ওম্বডসম্যান এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল এই তদন্ত পরিচালনা করে। এটিও-এর অডিটে ৫০টিরও বেশি করদাতা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ট্যাক্স, পে-অ্যাজ-ইউ-গো (PAYG) উইথহোল্ডিং এবং কর্মীদের সুপারঅ্যানুয়েশন বা অবসরকালীন ভাতা বাবদ বিশাল অঙ্কের অর্থ বকেয়া রাখা হয়েছে। এই গুরুতর অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা ও সুদ আরোপ করা হয়েছে।
এটিও-র সহকারী কমিশনার টনি গোডিং হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী সঠিক নিয়ম মেনে চললেও কিছু ‘অসাধু চক্র’ কর্মীদের ঠকিয়ে এবং কর ব্যবস্থা বা সিস্টেমের সঙ্গে প্রতারণা করে পুরো খাতটিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কর্মক্ষেত্রে শ্রম আইন ও মজুরি কাঠামো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা।
তদন্তে দেখা গেছে, শ্রম সরবরাহকারী ঠিকাদার এবং খামার মালিকরা কর্মীদের ন্যূনতম ক্যাজুয়াল মজুরি, ওভারটাইম এবং সরকারি ছুটির দিনের বাড়তি বেতন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফেয়ার ওয়ার্ক ওম্বডসম্যান বা শ্রম ন্যায়পাল দপ্তর এই অভিযানে ৬৭ জন কর্মীর বকেয়া বেতন হিসেবে প্রায় ২৪,০০০ ডলার উদ্ধার করেছে। এছাড়া রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ না করা এবং পে-স্লিপ না দেওয়ার মতো শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৮,০০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
শ্রম ন্যায়পাল অ্যানা বুথ জোর দিয়ে বলেছেন, শ্রম সরবরাহকারীদের অবশ্যই তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে হর্টিকালচার বা উদ্যানতত্ত্ব খাতে দুর্বল ও অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একইসময়ে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স। কর্মকর্তারা ৪২৩টি অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাই করেছেন।
বর্ডার ফোর্সের কমান্ডার জন টেলর জানান, অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অভিবাসী কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই কোনো নিয়োগকর্তা তাদের শোষণ করবেন, তা অস্ট্রেলিয়ায় মেনে নেওয়া হবে না। যদিও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সঠিক পথেই রয়েছে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে এবং সেগুলো আরও অধিকতর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কর, কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন আইন অমান্যকারী ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন টোপাজ’-এর আওতায় তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।