নর্দার্ন টেরিটরি সুপ্রিম কোর্টে চলমান এই স্পর্শকাতর বিচার প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দিতে এসে বিশেষজ্ঞ ডা. পিটার আশকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত ব্রেন্ডন কান্টিলা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন-এমন দাবির পক্ষে তিনি কোনো যৌক্তিক প্রমাণ পাননি।
আদালতে উপস্থাপিত ও উভয় পক্ষের সম্মত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাসে ডারউইনের মিলনার এলাকায় একটি শেয়ার্ড হাউসে নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি মেধাবী ছাত্র ইসফাকুর রহমান। গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে অভিযুক্ত টিউই আইল্যন্ডের বাসিন্দা ব্রেন্ডন কান্টিলা ঘুমন্ত ইসফাকুরের মাথায় ইটের ভারী টুকরো দিয়ে আঘাত করেন।
আঘাতের যন্ত্রণায় অচেতন ইসফাকুর যখন খিঁচুনি দিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে চিরতরে নিস্তব্ধ করার জন্য-বা অভিযুক্তের জবানবন্দি অনুযায়ী "আবার ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার জন্য"-একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) দিয়ে পুনরায় নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। আদালতে ডা. আশকার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, তিনি কারাগারে অভিযুক্তের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা চালিয়েছেন।
কান্টিলা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ভুক্তভোগীর সাথে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, যা তাঁকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তবে ডা. আশকার জুরিদের উদ্দেশ্যে বলেন, অভিযুক্তের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা বা ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দের তফাত বোঝার পূর্ণ সক্ষমতা তাঁর ছিল। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, অভিযুক্তের এমন কোনো সাইকোসিস বা মানসিক বৈকল্য ছিল না যা তাঁকে সেই রাতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে অক্ষম করে তুলেছিল।
এর আগে বিবাদী পক্ষের সাক্ষী ও আরেক বিশেষজ্ঞ লরা স্কট দাবি করেছিলেন যে অপরাধ সংগঠনের সময় কান্টিলার বিচারবিবেচনা বোধ বা মানসিক সক্ষমতা "উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত" ছিল। তবে ডা. আশকার সেই দাবির সাথে "জোরালোভাবে" দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি জানান, মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার ফলাফলে মিল থাকলেও তার প্রায়োগিক ব্যাখ্যায় তিনি লরা স্কটের সাথে একমত হতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা ডা. আশকারকে জেরা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শুক্রবার সমাপনী বক্তব্য পেশ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। প্রবাসে একজন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মহলে এখনো গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।