অন্যদিকে, নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এক আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ক্রিসের মা এবং তাঁর পরিবার। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস থর্নকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গত ২৩ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে। মেলবোর্নের টার্নাইট এলাকার হোপ ওয়ে-তে অবস্থিত তাঁর শেয়ার হাউস বা ভাড়া বাসা থেকে তিনি বের হয়ে যান। সে সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাদা রঙের টি-শার্ট এবং কালো জিন্স।
পুলিশ ক্রিসের শারীরিক বর্ণনায় জানিয়েছে, তিনি ককেশিয়ান বা শ্বেতাঙ্গ বংশোদ্ভূত, উচ্চতা প্রায় ১৬৭ সেন্টিমিটার, হালকা-পাতলা গড়ন এবং তাঁর মুখে বাদামী রঙের দাড়ি ও মাথায় বাদামী চুল রয়েছে। ক্রিসের মা মারিয়া ডি মিশেল তাঁর নিখোঁজ সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলেকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ জানান।
মারিয়া বলেন, "ক্রিস অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও মজার একজন মানুষ। সে একাধারে একজন চমৎকার স্কেটবোর্ডার এবং অসাধারণ শিল্পী। পরিবারের সবাই তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা শুধু চাই সে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক।" তিনি তাঁর ছেলের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা তোমাকে অনেক ভালোবাসি এবং আমরা জানি তুমিও আমাদের ভালোবাসো। দয়া করে ফিরে এসো।"
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ক্রিস সম্প্রতি টার্নাইট এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন। তাঁর মা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ক্রিস কিছু শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে তিনি হয়তো পথ হারিয়ে ফেলেছেন অথবা মানসিকভাবে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ছেলের উদ্দেশ্যে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, "ক্রিস, তুমি যদি এই বার্তাটি দেখে থাকো, তবে দয়া করে কাউকে ফোন করো।
যদি আশেপাশে পরিচিত কেউ না থাকে, তবে কাছের কোনো বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ো এবং সাহায্য চাও।" ক্রিসের ভাই অ্যাশ থর্ন জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ক্রিসের স্বভাববিরুদ্ধ। তিনি বলেন, "সে সবার খুব আদরের। বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে বের করার জন্য দিনরাত এক করে ফেলছে। আমাদের শুধু একটি বার্তা দরকার যে সে নিরাপদে আছে।
যদি সে কোনো কারণে বিরতি নিতে চায়, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই, আমরা শুধু তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।" ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিসকে খুঁজে বের করতে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস (এসইএস) এবং লাইফ সেভিং ভিক্টোরিয়ার বিশেষ দলগুলোও এই তল্লাশি অভিযানে সহায়তা করছে।
টার্নাইট ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, যদি কেউ ক্রিসের কোনো খোঁজ পান বা তাকে দেখে থাকেন, তবে যেন কালবিলম্ব না করে পুলিশকে অবহিত করেন।