রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নতুন দল নিয়েই তিনি লেবার সরকারের চতুর্থ মেয়াদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। জেস উইলসন, যিনি কোয়ালিশনের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে বিরোধীদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্র্যাড ব্যাটিনকে সরিয়ে দলের হাল ধরেন।
প্রথম মেয়াদের এমপি হয়েও তিনি ট্রেজারি পোর্টফোলিও নিজের হাতে রাখার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "আমি মনে করি, এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমিই বর্তমানে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। একটি বিকল্প সরকার হিসেবে রাজ্যের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।" তার মতে, আগামী দিনে একটি দক্ষ সরকার গঠনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
নতুন এই রদবদলে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। সাবেক দুই বিরোধীদলীয় নেতা ব্র্যাড ব্যাটিন এবং ম্যাথিউ গাইকে গুরুত্বপূর্ণ শ্যাডো পোর্টফোলিওতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্র্যাড ব্যাটিন, যিনি নিজেও একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, তাকে পুলিশ ও কারেকশন বা সংশোধনাগারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উইলসন জানান, ব্যাটিনের অভিজ্ঞতা এবং আবেগ রাজ্যের অপরাধ দমনে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, ম্যাথিউ গাইকে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং বন্দর ও ফ্রেইট বা পণ্য পরিবহনের শ্যাডো মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক আরেক নেতা জন পেসুট্টো, যিনি সম্প্রতি একটি মানহানির মামলায় জড়িয়েছেন, তাকে এই মন্ত্রিসভায় কোনো পদ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উইলসন জানান, পেসুট্টো তার নির্বাচনী এলাকা হথর্নে দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই রদবদলে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ডেভিড সাউথউইককে পুলিশ ও অপরাধ দমনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আবাসন ও পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। স্যাম গ্রথ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছেড়ে ক্রীড়া ও পর্যটন খাতের দায়িত্ব পেয়েছেন।
অন্যদিকে, রিচার্ড রিওর্ডান আবাসন ও পর্যটনের দায়িত্ব হারিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকারের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়লেও আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হলে কোয়ালিশনকে আরও ১৬টি নিম্নকক্ষ আসন জিততে হবে, যা উইলসনের নতুন দলের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।