৪১ বছর বয়সী সাবেক নার্স রাজবিন্দর সিং অবশ্য ২০১৮ সালের অক্টোবরে সংঘটিত এই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। সোমবার আদালতে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। নিউজিল্যান্ড ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী জয়শ্রী প্যাটেল আদালতে জানান, তোয়াহ কর্ডিংলির নখের নিচ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সাথে অভিযুক্ত রাজবিন্দর সিংয়ের ওয়াই-ক্রোমোজোমের জিনগত মার্কারের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ পরীক্ষায় অনেক সময় মিশ্র ডিএনএ থেকে পুরুষের উপস্থিতি শনাক্ত করা কঠিন হয়, তাই এই বিশেষ পরীক্ষার জন্য নমুনা নিউজিল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দুটি পৃথক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, নমুনার ২৭টি জেনেটিক মার্কারের সবকটিই রাজবিন্দর সিংয়ের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে মিলে যায়। একইসাথে, তোয়াহর প্রেমিক মার্কো হেইডেনরিচকে এই ডিএনএ উৎস হিসেবে পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানিতে তোয়াহর প্রিয় পোষা কুকুর ‘ইন্ডি’র প্রসঙ্গটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। তোয়াহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেগান প্রিচার্ড সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, তোয়াহ তার কুকুরটিকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এবং কখনোই তাকে কোনো গাছের সাথে খুব শক্ত করে বেঁধে রাখতেন না। অথচ তোয়াহর মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার কুকুরটিকে ঘটনাস্থলের কাছেই একটি গাছের সাথে এত শক্তভাবে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল যে, তোয়াহর মা ভ্যানেসা গার্ডিনারকে সেটি খুলতে অন্যের সাহায্য নিতে হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের যুক্তি, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে তোয়াহর হত্যাকারীই কুকুরটিকে সেখানে বেঁধে রেখেছিল, তোয়াহ নয়। রাজবিন্দর সিংয়ের আইনজীবী গ্রেগ ম্যাকগুয়ার কেসি অবশ্য পুলিশি তদন্তের ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ সার্জেন্ট গ্যারি হলের কাছে জানতে চান যে, ঘটনার দিন ওয়াংগেটি বিচে দেখা যাওয়া অন্যান্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গাড়িগুলোর বিষয়ে পুলিশ যথাযথ তদন্ত করেছিল কিনা।
বিশেষ করে জশুয়া জেমস রিচার্ডস এবং ইভান ম্যাকক্রি নামের দুই ব্যক্তির ওপর তদন্তের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আগেই সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। উল্লখ্য, ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর তোয়াহ কর্ডিংলি তার কুকুর নিয়ে ওয়াংগেটি বিচে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হন এবং পরদিন বালিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পরদিন সকালেই রাজবিন্দর সিং একমুখী টিকিট কেটে ভারতের নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান। দীর্ঘ তিন সপ্তাহের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযুক্ত রাজবিন্দর সিং নিজের সাফাইয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি বা কাঠগড়ায় দাঁড়াননি। মঙ্গলবার থেকে আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাদের সমাপনী যুক্তিতর্ক বা 'ক্লোজিং আর্গুমেন্ট' উপস্থাপন শুরু করবেন। এরপরই বিচারক লিঙ্কন ক্রাউলি জুরির উদ্দেশ্যে মামলার সারসংক্ষেপ তুলে ধরবেন।