তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের আঘাত গুরুতর হলেও তা প্রাণঘাতী নয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জরুরি খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অধ্যক্ষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অধ্যক্ষের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী এবং ভুক্তভোগী একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ভিক্টোরিয়া অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি-উভয়কেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভিক্টোরিয়ার শিক্ষা বিভাগ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছে যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী জড়িত ছিল না বা কোনো শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র স্কুলের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং জরুরি পরিষেবা বা ইমার্জেন্সি সার্ভিসকে খবর দিয়েছেন।
ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা যেন আতঙ্কিত না হয় এবং নিরাপদে থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা জরুরি প্রোটোকল ‘কোড ব্ল্যাক’ অনুসরণ করেন। শিক্ষার্থীরা নির্দেশ অনুযায়ী জিমনেশিয়াম, থিয়েটার বা নিকটস্থ শ্রেণিকক্ষে নিজেদের নিরাপদে আবদ্ধ করে রেখেছিল এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করে। একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুলটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ প্রস্তুত ছিল এবং নিয়মিত মহড়াও অনুষ্ঠিত হতো।
ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয় যে সকল শিক্ষার্থী নিরাপদে আছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি বিস্তারিত বার্তায় জানায়, অধ্যক্ষ অ্যারন সাইকস মানসিকভাবে শক্ত আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। স্কুলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তাদের নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক সংস্কৃতি বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে কাউন্সেলিং বা বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মেলবোর্নের এই অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার এটিই প্রথম ঘটনা নয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই গত বৃহস্পতিবার বারউইকের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আট বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছিল। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ১১ বছর বয়সী বালকটি ফৌজদারি অপরাধের দায়বদ্ধতার বয়সের নিচে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পরপর এমন ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।