যদিও কোয়ালিশন নীতিগতভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন জানিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তারা সরকারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ‘বিশৃঙ্খল’ ও ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল নিশ্চিত করেছে যে, তাদের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, বাধ্য হয়ে কিশোর-কিশোরীরা যখন নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ছাড়া বা ‘লগ-আউট’ অবস্থায় ইউটিউব ব্যবহার করবে, তখন তারা বয়সোপযোগী সুরক্ষা ফিল্টার ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
এতে তাদের নিরাপত্তা আরও বিঘ্নিত হতে পারে। ইউটিউবের এই যুক্তিকে ‘অদ্ভুত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস। তিনি পাল্টা মন্তব্য করেন, লগ-আউট অবস্থায় প্ল্যাটফর্মটি যদি শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়, তবে সেই কারিগরি ত্রুটি বা সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব ইউটিউবকেই নিতে হবে। এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে আয়োজিত একটি অনলাইন নিরাপত্তা ইভেন্টে যোগ দিতে মন্ত্রী আনিকা ওয়েলসের নিউইয়র্ক সফর এবং সেখানে প্রায় এক লাখ ডলার ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সিনেটের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী ও তাঁর দুই কর্মীর বিমান ভাড়া এবং আবাসন বাবদ করদাতাদের বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। বিরোধী নেতা সুসান লে একে সাধারণ মানুষের কষ্টের সময়ে অর্থের অপচয় বলে সমালোচনা করেছেন। তবে মন্ত্রী ওয়েলস এই ব্যয়ের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব এবং অবস্থান তুলে ধরতে এই সফর অপরিহার্য ছিল। তিনি হাইকোর্টে সরকারের এই আইন রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও সন্তানহারা মায়েরা সরকারের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিংয়ের শিকার হয়ে আত্মাহুতি দেওয়া কিশোরী টিলি রোজওয়ার্নের মা এমা মেসন মন্ত্রীর সফরকে সমর্থন করে বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি প্রয়োজন। আরেক ভুক্তভোগী মা মিয়া ব্যানিস্টার অভিভাবকদের সাময়িক কষ্ট সহ্য করে দীর্ঘমেয়াদী সুফলের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল মনে করছে, সরকার ও সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিভ্রান্তি প্রমাণ করে যে অ্যালবানিজ সরকার এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।