স্বাস্থ্য বিভাগ কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কমিটির প্রশ্নের উত্তর দেন। এর আগে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ উপকূলের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেছিলেন যে, অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীদের জন্য কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা প্রচার করেনি, যা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
সমুদ্রের ফেনা বা সি-ফোমে ‘ব্রেভোটক্সিন’ নামক বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছিল। এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক স্পুরিয়ার কমিটিকে জানান, স্বাস্থ্যের ওপর এই শৈবালের প্রভাব বুঝতে এখনো কাজ চলছে। তিনি স্বীকার করেন যে, সাধারণ চিকিৎসকদের (জিপি) কাছ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের কোনো সুগঠিত পদ্ধতি নেই, তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক এবং সার্ফ লাইফ সেভিং পেট্রোল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে।
নিকোলা স্পুরিয়ার বলেন, “আমাদের জনসংখ্যা পর্যায়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। একজন মেডিকেল বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনা করে দেখা হবে যে সত্যিই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়েছে কি না।” তিনি আরও জানান, অনেকের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেও তা সাধারণত স্বল্পস্থায়ী এবং অস্পষ্ট, তাই নিশ্চিতভাবে একে শৈবালের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করা কঠিন।
হাসপাতাল বা সহকর্মীদের কাছ থেকেও অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টের রোগীর চাপের কোনো খবর তিনি পাননি। নিউমোনিয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এই বছর রোগীর পরিসংখ্যানে তেমন কোনো পার্থক্য নেই এবং ব্রেভোটক্সিন নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে-এমন কোনো প্রমাণ এখনো তাঁর কাছে নেই। এদিকে, ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আগে ধারণা করা কারেনিয়া মিকিমোটোই নয়, বরং কারেনিয়া ক্রিস্টাটা নামক শৈবাল প্রজাতিটিই এবারের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।
আগেরটির চেয়ে ভিন্ন এই প্রজাতিটি ব্রেভোটক্সিন উৎপাদন করে, যা ঝিনুক বা শামুকজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে বমি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে অধ্যাপক স্পুরিয়ার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, আসন্ন গ্রীষ্মে সৈকত বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই, কারণ তিনি মনে করেন এটি পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। শিশুদের সাঁতার শেখার কার্যক্রম বা ‘ভ্যাকসুইম’ যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে, কারণ শিশুরা সাঁতার না জানলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।