এই ঘটনা ওই শান্ত জনপদটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের কিছু আগে জরুরি সেবা সংস্থার নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে, ৪১ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই ব্যক্তির ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত হামলাকারী গুলিবর্ষণের পর চতুর্থ আরেক ব্যক্তির সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ ৪১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আঘাত গুরুতর হওয়ায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশ অকুস্থলের খুব কাছেই দ্বিতীয় আরেকটি দুর্ঘটনার খবর পায়। সেখানে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই দুটি ঘটনার মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র থাকতে পারে। এদিকে, প্রথম ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৩৮ বছর বয়সী ব্যক্তিও নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। পুলিশ আহত এই দুই ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও কার্যকারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে লুকিয়ে থাকা ৩৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টুইড হেডস পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল এবং পুলিশের বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আলামত সংগ্রহ এবং পলাতক বা লুকিয়ে থাকা অন্য কোনো সন্দেহভাজন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তের সুবিধার্থে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মারউইলুম্বাহর পশ্চিমে কেলিস রোড থেকে ওল্ড লিসমোর রোড পর্যন্ত টায়ালগাম সড়কটি সাধারণ যান চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা আছে এমন কাউকে এগিয়ে এসে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।