বিশেষ করে পার্থ স্টেডিয়ামে বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড ‘এসি/ডিসি’ (AC/DC)-র কনসার্ট দেখতে যাওয়া হাজারো দর্শক এবং অফিস ফেরত সাধারণ যাত্রীরা এই বিশৃঙ্খলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনাটি ঘটে কুইনানা ফ্রিওয়ের নর্থ লেক এবং আরমাডেল রোড ইন্টারচেঞ্জের ঠিক দক্ষিণে। দুর্ঘটনার প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জান্ডাকোট এবং ককবার্ন এলাকায় গাড়িগুলো দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের নিরাপত্তা অবকাঠামোতে আঘাত হানে, যার ফলে রেললাইনের ওপরের বৈদ্যুতিক তার এবং সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট মান্ডুরাহ লাইনের ট্রেন চলাচল উভয় দিকেই কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এলিজাবেথ কোয়ে এবং আবিন গ্রোভ স্টেশনে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সারি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রান্সপার্থ কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানায়, মান্ডুরাহ লাইনের কিছু অংশে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে, তবে তা স্বাভাবিক সময়সূচি মেনে চলছে না এবং ইয়ানচেপ লাইনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
উদ্ধারকারী দল এবং রেলওয়ে প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামতের জন্য ঘটনাস্থলে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত সাদা রঙের প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং পণ্যবাহী ট্রাকটির চাকা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তবে বড় ধরণের দুর্ঘটনা সত্ত্বেও পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রাণহানির বা প্রাণসংশয়কারী গুরুতর জখমের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ রেখে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে, যা যানজটকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। পিক আওয়ার এবং রক কনসার্টের ঠিক আগে এমন ট্রাফিক বিপর্যয় পার্থের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।