ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ ‘বক্সিং ডে’-এর রাতে। উত্তর ব্রিসবেনের নর্থ লেকস এলাকায় নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় ৪১ বছর বয়সী এমা লাভেলকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তার স্বামী লি লাভেলও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। হামলাকারী হিসেবে আটক করা হয় এক কিশোরকে, যার বয়স ঘটনার সময় ছিল ১৭ বছর। পরবর্তীতে আদালতে সে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়।
প্রাথমিকভাবে বিচারিক আদালত ওই কিশোরকে ১৪ বছরের ডিটেনশন বা আটকাদেশ প্রদান করে এবং নির্দেশ দেয় যে, সাজার মেয়াদের অন্তত ৭০ শতাংশ সময় তাকে অবশ্যই কারাগারে কাটাতে হবে। কিন্তু গত আগস্ট মাসে আসামিপক্ষ দাবি করে যে, এই সাজা বা শর্তটি 'অত্যধিক কঠোর'। এই যুক্তির প্রেক্ষিতে কুইন্সল্যান্ডের আপিল আদালত আসামির পক্ষে রায় দেয় এবং সাজার শর্ত শিথিল করে ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনে।
আদালতের সেই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৩১ সালেই ওই অপরাধীর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল, যা ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দেয়। তবে শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কুইন্সল্যান্ডের অ্যাটর্নি-জেনারেল ডেব ফ্রেকলিংটন নিশ্চিত করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার হাই কোর্ট এই সাজা হ্রাসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য বিশেষ অনুমতি (স্পেশাল লিভ) প্রদান করেছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "অ্যাটর্নি-জেনারেল হিসেবে লাভেল পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমি সম্ভাব্য সব আইনি পথ অনুসরণ করব। এমা লাভেল ছিলেন একজন স্নেহময়ী মা, যার জীবন তার নিজের বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" বর্তমানে ওই অপরাধী ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বিশেষ নজরদারির আদেশের অধীনে থাকলেও, নতুন করে হাই কোর্টে আপিল গৃহীত হওয়ায় তার সাজার মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাই কোর্ট এখনো শুনানির চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করেনি, তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই আইনি হস্তক্ষেপকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আইন বিশ্লেষকরা।