তাসমানিয়ার উল বা পশম শিল্পের ইতিহাসে ‘এরমেঞ্জিলদো জেনিয়া ট্রফি’ (Ermenegildo Zegna Trophy)-র গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেরা ‘সুপারফাইন মেরিনো’ পশম উৎপাদনকারীদের এই সম্মানজনক ট্রফিটি প্রদান করা হতো। এটি কেবল একটি পুরস্কারই নয়, বরং তাসমানিয়ার উন্নত মানের পশম এবং ইতালীয় উচ্চবিত্ত ফ্যাশন জগতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।
প্রখ্যাত তাসমানিয়ান ভাস্কর স্টিফেন ওয়াকার এই অনন্য স্মারকটি তৈরি করেছিলেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল সেন্টারের জাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছিল। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি হুডি বা মাথা ঢাকা জ্যাকেট, ট্রাউজার এবং গ্লাভস পরিহিত অবস্থায় জাদুঘরের পাশের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চোর সরাসরি ট্রফিটির দিকে এগিয়ে যায় এবং হাতুড়ি দিয়ে কাঁচের বাক্সটি ভেঙে ফেলে।
ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চোর অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রীর দিকে নজর দেয়নি, বরং সুনির্দিষ্টভাবে এই ট্রফিটিই লক্ষ্যবস্তু ছিল। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রফিটি নিয়ে ওই ব্যক্তি একটি সাদা ভ্যানে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাসমানিয়ান উল সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার জেসিকা নিউটন জানান, ডিসেম্বরের এক রাতে এই চুরির খবর পেয়ে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটি কোনো দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল।
তিনি বলেন, “ট্রফিটি দেখতে অসাধারণ ছিল এবং এটি মিডলু ল্যান্ডসে পশম চাষের পুরো ইতিহাস বহন করত। এত কষ্ট করে কেউ শুধু এটি চুরি করতে আসবে, তা ভাবাই যায় না।” তিনি ধারণা করছেন, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে এই ট্রফিটিকেই লক্ষ্য করা হয়েছিল। পশম শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এবং স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উল ব্রোকার রব ক্যালভার্ট বলেন, “বাণিজ্যিক মূল্যের চেয়ে এই ট্রফিটির প্রতীকী মূল্য অনেক বেশি।
যারা এই পুরস্কার জিততেন, তাদের বিশ্বের সেরা পশম উৎপাদনকারী হিসেবে গণ্য করা হতো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি এমন একটি অনন্য সামগ্রী যা খোলা বাজারে বা কোনো পানশালায় সহজে বিক্রি করা সম্ভব নয়। এটি অমূল্য এবং এর ক্রেতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দর ও নিরিবিলি এই গ্রামের মানুষ এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত নয়, তাই চুরির এই ঘটনা স্থানীয়দের মনে গভীর দাগ কেটেছে। কর্তৃপক্ষ এবং গ্রামবাসী এখনো আশায় আছেন যে, তাসমানিয়ার পশম শিল্পের ইতিহাসের সাক্ষী এই ‘অমূল্য’ ট্রফিটি একদিন আবারও তার আপন ঠিকানায় ফিরে আসবে।