শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিডনিতে নিরাপত্তা বিধিমালার চরম লঙ্ঘনে বন্ধ ঘোষণা করা হলো ‘ফান-টু-লার্ন’ চাইল্ডকেয়ার সেন্টার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

সিডনিতে নিরাপত্তা বিধিমালার চরম লঙ্ঘনে বন্ধ ঘোষণা করা হলো ‘ফান-টু-লার্ন’ চাইল্ডকেয়ার সেন্টার
ছবি: ABC News

সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ‘ফান-টু-লার্ন’ (Fun2Learn) নামক একটি চাইল্ডকেয়ার সেন্টার দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে সেটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের (NSW) নবগঠিত প্রাক-শৈশব শিক্ষা কমিশন বা আর্লি লার্নিং কমিশনের কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে রোজহিলের এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম জোরপূর্বক স্থগিত করা হয়।

 

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের শেষ দিকে গঠিত এই নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে এটিই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা, যা রাজ্যের প্রাক-শৈশব শিক্ষা খাতে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে অন্তত ৪১টি গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো-শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য কর্মীদের যে বাধ্যতামূলক আইনি ছাড়পত্র বা ‘ওয়ার্কিং উইথ চিলড্রেন চেক’ প্রয়োজন, নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক কর্মীরই তা ছিল না। এছাড়া জরুরি নির্গমন পথ বা ফায়ার এস্কেপগুলোতে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং ২০১১ সালের পর থেকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো একবারও পরীক্ষা না করার মতো ভয়াবহ সব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেওয়া এমন কঠোর পদক্ষেপকে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

কমিশনের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ড্যারিল কারি এই সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জন্য একটি ‘শক্তিশালী বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় না থেকে আগেই ঝুঁকি দূর করা আমাদের দায়িত্ব। যদিও একটি সেন্টার বন্ধ হলে পরিবারগুলোকে সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হয়, কিন্তু শিশুদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য ছিল।”

 

নিউ সাউথ ওয়েলসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী কোর্টনি হাউসোস জানিয়েছেন, শিক্ষা বিভাগ এবং কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১২ বছরে অন্তত ১৮ বার পরিদর্শনের পরও যখন তারা ৪১টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তখন এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের ৯৩ শতাংশ চাইল্ডকেয়ার সেন্টার নিয়ম মেনে চললেও, যারা ধারাবাহিকভাবে নিয়ম ভাঙছে তাদের অবশ্যই পরিণাম ভোগ করতে হবে।

 

গত ডিসেম্বরেই এই বন্ধের নোটিশ এবং ৩৭টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সরকার বর্তমানে এই পরিবারগুলোকে বিকল্প সেবা খুঁজে পেতে সহায়তা করছে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান চাইল্ডকেয়ার অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী চিয়াং লিম এমন নিম্নমানের প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকেই কর্তৃপক্ষের হাতে এমন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আইনি ক্ষমতা ছিল, তবুও কেন এত দিন অপেক্ষা করা হলো তা বোধগম্য নয়।

 

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো হয়তো এখনো যথেষ্ট তৎপর নয় এবং তাদের নজরদারির প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকতে পারে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, রাজ্যজুড়ে ৬,১০০টি কেন্দ্রের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ৫৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।

 

- ABC News