ক্যানবেরার উত্তরে নিজের শহর গোলবার্নে নবনিযুক্ত উপ-নেতা জেন হিউমকে সাথে নিয়ে নির্মাণশ্রমিক ও তরুণ পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা করেন। টেলর জোর দিয়ে বলেন, "একটি নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া অস্ট্রেলীয় স্বপ্নের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আমাদের এই মহান জাতির ভিত্তি।"
টেলর আবাসন সংকট মোকাবেলায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা 'ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স' বা মূলধনী মুনাফা করের কোনো পরিবর্তনের বিরোধিতা করবেন।
তাঁর মতে, কোনো কিছুর ওপর কর বাড়ালে তার প্রাপ্যতা কমে যায়। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আলবানিজ সরকার আবাসন সংকট সমাধানে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কর ছাড়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে, যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে, সুসান লে দলীয় নেতৃত্ব হারানোর পর সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলসের ফারার আসনে উপ-নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। ১৯৪৯ সাল থেকে এটি রক্ষণশীলদের জন্য একটি নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসলেও, টেলর স্বীকার করেছেন যে এবারের লড়াই লিবারেল পার্টির জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
তিনি বলেন, "অবশ্যই এটি চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে আমরা আমাদের মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।" ২০০১ সাল থেকে এই আসনের এমপি ছিলেন সুসান লে। বিগত ২০২৫ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মিশেল মিলথর্পকে মাত্র ৬.২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
মিলথর্প এবারও নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ মানুষ দলীয় কোন্দলে বিরক্ত এবং তাঁরা বাস্তবিক ফলাফল চান। ওয়ান নেশন পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং ন্যাশনালের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনায় এই উপ-নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে টেলর এখনই বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর হাতে অনেক মেধাবী নেতা রয়েছেন। তিনি এবং সিনেটর হিউম অভিবাসন নীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার নিয়ে লেবার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন।
অভিবাসন প্রসঙ্গে টেলর মন্তব্য করেন, বর্তমানে অভিবাসীর সংখ্যা অত্যধিক এবং মানদণ্ড অত্যন্ত নিম্ন। তিনি এমন একটি অভিবাসন নীতির পক্ষে কথা বলেন যা অস্ট্রেলীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যেখানে ঘৃণা বা সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই রাজনৈতিক পালাবদল এবং আসন্ন উপ-নির্বাচন অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।