প্রায় তিন বছর আগের এই ঘটনাকে পুলিশ এখন ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তদন্তের জট খুলতে জনসাধারণের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের তথ্যের আহ্বান জানিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সেন্ট্রাল ওয়েস্ট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তকারীরা এই মামলার কিনারা করতে বদ্ধপরিকর। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩ জুন, শনিবার ভোরে।
অরেঞ্জের পিম্পালা প্লেসের একটি বাসভবনে ভোর পৌনে ৬টার দিকে ভয়াবহ আগুন লাগে। জরুরি পরিষেবা বা ইমার্জেন্সি সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দেখতে পান পুরো বাড়িটি আগুনের লেলিহান শিখায় গ্রাস হয়ে গেছে।
ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ এনএসডব্লিউ-এর সাহসী কর্মকর্তারা আগুনের ভেতর থেকে ৯ এবং ১০ বছর বয়সী দুটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অরেঞ্জ বেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
তবে দুর্ভাগ্যবশত, উদ্ধারকর্মীরা বাড়ির সামনের একটি কক্ষে নাওমি ব্যাক্সটারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পুলিশ জানায়, ওই সময় শিশুদের বাবা আগুন থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও পরিবারকে বাঁচাতে পুনরায় বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তিনি দগ্ধ হন।
পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট লুক র্যাঙ্কিন এই ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত নাওমির সঙ্গী এবং ওই শিশুদের বাবাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি তদন্তে সহায়তা করেছেন এবং তাকে এই মামলার একজন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুপারিনটেনডেন্ট র্যাঙ্কিন বলেন, “আমরা জানি ঘটনার সময় নাওমি একটি সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন এবং তার সঙ্গীও সেই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমরা জানতে চাই, নাওমির জীবনের এমন কোনো দিক আছে কি না, যা আমাদের অজানা। সমাজের কেউ যদি তার সম্পর্কে সামান্যতম তথ্যও দিতে পারেন, তবে সেটি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তদন্তের জন্য তারা ব্যাপক জনবল ও সম্পদ নিয়োগ করেছে। সেন্ট্রাল ওয়েস্ট পুলিশ ডিস্ট্রিক্টের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তারা কোনো সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছেন না।
ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত বেশ কিছু আলামতের ফরেনসিক বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো চলছে, যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং তারা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ হাল ছাড়েনি। তারা বিশ্বাস করে, কমিউনিটির মানুষের কাছে এমন কোনো তথ্য থাকতে পারে যা হয়তো আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হলেও এই মামলার সমাধানে চাবিকাঠি হতে পারে।
এ কারণে তদন্তকারী দল আবারও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কারও কাছে এই ঘটনা সম্পর্কিত কোনো তথ্য থাকে, তবে তারা যেন অবিলম্বে সেন্ট্রাল ওয়েস্ট পুলিশ ডিস্ট্রিক্ট অথবা ‘ক্রাইম স্টপার্স’-এর ১৮০০ ৩৩ ৩০০০ নম্বরে যোগাযোগ করেন। গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে পুলিশ সত্য উদঘাটনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।