শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লজেন্স দোকানের আড়ালে অবৈধ তামাক বিক্রি, আলবানিতে দুই কর্মীর সাজা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

লজেন্স দোকানের আড়ালে অবৈধ তামাক বিক্রি, আলবানিতে দুই কর্মীর সাজা
ছবি: ABC News

অস্ট্রেলিয়ার আলবানি শহরে লজেন্স দোকানের ছদ্মবেশে অবৈধ তামাকজাত পণ্য বিক্রির দায়ে দুই কর্মীকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করেছে স্থানীয় আদালত। গত মাসে আলবানি অপরাধ তদন্ত বিভাগ ওই ‘ক্যান্ডি স্টোর’-এ অভিযান চালিয়ে ২২ হাজারেরও বেশি সিগারেট এবং ৮৯টি নিকোটিনযুক্ত ভ্যাপ জব্দ করে।

 

অভিযুক্ত নারী ও পুরুষ কর্মী আলবানি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। আদালত উভয়কে ১,০০০ ডলার করে জরিমানা করার পাশাপাশি তাদের অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

 

তবে এই মামলার শুনানিতে অঞ্চলের অবৈধ তামাক বাণিজ্যের পর্দার আড়ালের কিছু চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, তারা মূলত এক রহস্যময় ব্যক্তির অধীনে কাজ করতেন যাকে তারা কেবল 'দ্য কিং' বা 'রাজা' নামে চিনতেন।

 

এই মূল হোতার প্রকৃত পরিচয় তাদের কাছে অজ্ঞাত ছিল। কর্মীরা দাবি করেন, দৈনিক ২৫০ ডলার মজুরির বিনিময়ে তাদের কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, তারা দীর্ঘ সময় কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাদের কোনো পারিশ্রমিকই প্রদান করেনি।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত নারী কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি পেশাদার কোর্সে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন তিনি এবং সেই সঞ্চয়ের আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি এখন এতটাই আতঙ্কিত যে, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলে আত্মরক্ষার্থে নিজের বাড়িতেই লুকিয়ে থাকতে চান।

 

এমনকি অপরাধী চক্রটি তার কিশোর সন্তানকেও তাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট রোজমেরি মেয়ার্স এই মামলার রায় প্রদানের সময় অত্যন্ত কঠোর ও সংবেদনশীল পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে লজেন্সের দোকানের আড়ালে এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে নিজের সন্তান যদি লজেন্স কিনতে গিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাজাত দ্রব্যের সংস্পর্শে আসত, তবে বিষয়টি কতটা ভয়াবহ হতো তা অনুধাবন করা প্রয়োজন।

 

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, কোনো কাজের প্রস্তাব যদি অবিশ্বাস্য রকমের ভালো মনে হয়, তবে সাধারণত তার পেছনে বড় কোনো অনিষ্ট লুকিয়ে থাকে। এদিকে পুলিশি অভিযানের পর দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে পার্শ্ববর্তী সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 

পার্শ্ববর্তী দোকানের মালিক রোসানা ক্রেলিগো জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষ তার দোকানে এসে অবৈধ সিগারেট ও ভ্যাপের খোঁজ করছে। বারবার নিষেধ করা এবং দোকানের বাইরে সতর্কবার্তা টাঙানোর পরও উটকো ক্রেতাদের আনাগোনা কমছে না।

 

নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী এখন তাদের কর্মস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরার ওপর নির্ভর করছেন এবং অপরিচিতদের উপস্থিতিতে ভীত হয়ে পড়ছেন। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক তামাক পাচার ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের এক স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

- ABC News