অভিযুক্ত বেক্টন ৭৭টি শিশু যৌন অপরাধের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন, যার মধ্যে একটি দুই মাস বয়সী শিশুকেও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সাল থেকে বেক্টনের এই ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ শুরু হয়।
তখন তার বয়স ছিল ২৮ বছর। তিনি প্রথমে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিগ্রহ করেন এবং সেই দৃশ্য নিজের ফোনে ধারণ করেন। বিচারক হেইলি করম্যান এই কর্মকাণ্ডকে 'অত্যন্ত জঘন্য', 'বিকৃত' এবং 'অসুস্থ' বলে অভিহিত করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছর ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে ছয়টি শিশুর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
এর মধ্যে কয়েকজনকে তাদের নিজেদের বাড়িতেই নিগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি বিদেশ ভ্রমণে গিয়েও তিনি একটি শিশু কন্যার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালে বেক্টনকে গ্রেফতারের সময় তার ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো থেকে ১ লক্ষেরও বেশি শিশু পর্নোগ্রাফি এবং নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করে পুলিশ।
সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, মাত্র দুই মাস বয়সী একটি শিশুর ওপর তিনি ৪৫ বার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিওগুলো অনলাইনে পেডোফিলিক বা শিশু যৌনকামী গ্রুপগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বিচারক করম্যান রায়ে উল্লেখ করেন, সময়ের সাথে সাথে বেক্টনের অপরাধের মাত্রা এবং ভয়াবহতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। শুনানি চলাকালীন বেক্টনের আইনজীবী তার মক্কেলের শৈশবের অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং পারিবারিকভাবে অল্প বয়সেই প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্টের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিচারক স্বীকার করেন যে বেক্টনের বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক ছিল না, তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে-এটি কোনোভাবেই এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের অজুহাত হতে পারে না। যদিও বেক্টন তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে তাকে পুনরায় অপরাধ করার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মাইকেল ব্রায়ান বেক্টনকে ২৪ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তার এই সাজা ২০২৪ সালে গ্রেফতার হওয়ার সময় থেকে কার্যকর হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০৪৪ সালের আগে তিনি প্যারোলে বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এই রায়টি শিশুদের সুরক্ষায় বিচার বিভাগের আপসহীন অবস্থানের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।