আগামী একুশে মার্চ শনিবার অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের আগে টানা আঠাশ দিন ধরে এই তুমুল নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে সরকারের দৈনন্দিন সাধারণ কাজ অব্যাহত থাকলেও নতুন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক হতে পারে এমন কোনো বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা বিশাল চুক্তি সম্পাদন থেকে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সাধারণ ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা ও রাজ্যের প্রিমিয়ার পিটার ম্যালিনাউস্কাস আবাসন খাতের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।
গত নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়লাভ করা পিটার এবার শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সাবেক ওয়েস্ট এন্ড ব্রুয়ারি এলাকায় অন্তত এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শহর ও শহরতলিতে আবাসন সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির এই সময়োপযোগী পরিকল্পনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
আসন্ন আঠাশ দিনের প্রচারণা নিয়ে নিজের মিশ্র অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে জনগণের হাতে থাকলেও নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর তার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল লিবারেল পার্টির নেত্রী অ্যাশটন হার্ন তার প্রথম দিনের প্রচারণায় আঞ্চলিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। গুলওয়া অঞ্চলে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়াত সহায়তার ব্যাপক সংস্কারের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন।
এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার অধীনে চিকিৎসার প্রয়োজনে শহরে আসা আঞ্চলিক রোগীদের সরকারি আবাসন ভাতা দৈনিক চুয়াল্লিশ ডলার থেকে বাড়িয়ে একশ দশ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি মনে করেন, এর ফলে প্রত্যন্ত ও আঞ্চলিক এলাকার মানুষ চরম আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। রাজনৈতিক এই উত্তাপের মাঝে প্রকাশিত সাম্প্রতিক দুটি নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপে দেখা গেছে, সমর্থন আদায়ের দিক থেকে লিবারেল পার্টি বর্তমানে ওয়ান নেশন দলের চেয়েও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে।
নিউজপোলের জরিপে লেবার পার্টি চুয়াল্লিশ শতাংশ, ওয়ান নেশন চব্বিশ শতাংশ এবং লিবারেল পার্টি মাত্র চৌদ্দ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে, ইউগভ পরিচালিত জরিপেও লেবার পার্টি সাঁইত্রিশ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং লিবারেল পার্টি কুড়ি শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে।
এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ওয়ান নেশন দলের প্রধান প্রার্থী কোরি বার্নার্ডি জানান, ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট ও জোরালো আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাউথ অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস দলের নেতা রবার্ট সিমস নিজেদের ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনের বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে ওয়ান নেশন দলকে সম্পূর্ণ নীতিহীন বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার এবারের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক অভূতপূর্ব ও ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।