শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহায়তার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া
ছবি: AA

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে অস্ট্রেলিয়া। তবে চলমান এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নিতে কোনো পরিস্থিতিতেই সেনা পাঠাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ক্যানবেরা।

 

রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয়-এমন দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছেন।

 

মূলত অত্যাধুনিক ইরানি ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে প্রতিরক্ষামূলক সুরক্ষার জন্যই এই সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে বলে তিনি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর নজিরবিহীন সামরিক হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 

ওই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দেড় শতাধিক নিরীহ স্কুলছাত্রীসহ সহস্রাধিক মানুষ নিহত হন। এর কড়া জবাবে তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলের একাধিক বড় শহরে ব্যাপক মাত্রায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

 

এমন এক অস্থিতিশীল ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার নিরপেক্ষ কিন্তু সতর্ক অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, "আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপে অংশ নিচ্ছি না এবং দেশটিতে কোনো স্থল সেনা মোতায়েন না করার বিষয়টিও আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।"

 

পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, "এটি কোনোভাবেই ইরাক যুদ্ধ নয় এবং আমরা হাওয়ার্ড সরকারও নই। আমরা চাই না আমাদের দেশের নারী ও পুরুষরা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো স্থলযুদ্ধে অংশ নিয়ে নিজেদের জীবন বিপন্ন করুক।"

 

অস্ট্রেলিয়া সরকার নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীন মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তার আবেদনগুলো বিবেচনা করছে বলে ক্যানবেরার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে দেশের জনগণকে অবহিত করা হবে।

 

এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে অব্যাহত রেখেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আকাশপথে এখন পর্যন্ত দেড় সহস্রাধিক অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিরাপদে নিজ দেশে ফিরেছেন।

 

রোববারের সূচি অনুযায়ী, দুবাই থেকে ১৫১ জন যাত্রী নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট মেলবোর্নে এবং আরেকটি ফ্লাইট সন্ধ্যায় সিডনিতে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে প্রথম আকস্মিক হামলা শুরু করে, তখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার অস্ট্রেলীয় নাগরিক অবস্থান করছিলেন, যাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন ক্যানবেরার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

- AA News