তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘নজরুলের আঙিনায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘গ্যাং কালচার বন্ধ হোক’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তের হিসাব চাই’ ও ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে বল বাউন্ডারির বাইরে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই দিন রাতে অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবনসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরে কলা ভবনের সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে ওই তিন বিভাগের রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমান নামের চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি এমন কী করেছিলাম যে আমাকে মারার চেষ্টা করা হলো? শুধু একটা বলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কখনোই কাম্য নয়।’ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো আইন নেই?
কেউ অপরাধ করলে কি তার কোনো শাস্তি হবে না?’ রবিউলের অভিযোগ, সংঘর্ষের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সিফাত ও তাঁর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, অপকর্ম করেও শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে তিনি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিব বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ না করা হলে কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হলে, এই নজিরবিহীন হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঠিক বিচার না পেলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করতে চাই না। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলছি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। খুব দ্রুত তদন্তের ফল প্রকাশ করতে চাই। এ ধরনের ঘটনায় কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।’