শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামেদ আলীর যত অনিয়ম

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম

পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামেদ আলীর যত অনিয়ম
ছবি : নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামেদ আলীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

 

এসব অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ রসিদ ছাড়াই একই খাতে দুই দফায় টাকা নেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া সেশন চার্জের নামেও রসিদ ছাড়া ইচ্ছামতো অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামেদ আলীর বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর পদটি শূন্য হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক শাহাজাহান আলীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জামেদ আলী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের সুপারিশ ছিল বলেও দাবি করেছেন সহকারী শিক্ষক শাহাজাহান আলী।

 

এদিকে, এসব অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১০ মে এলাকাবাসীর পক্ষে ইমতিয়াজ নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
জামেদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুর নিলামের মাধ্যমে লিজ দেওয়া হলেও সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়া এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক।

 

তাঁদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্ত ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজাহান আলী বলেন, “জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল।

 

কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের সুপারিশে জামেদ আলী দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি নিয়েও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা বলেন, “প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ রসিদ ছাড়াই টাকা সংগ্রহ করেছি।

 

সংগৃহীত অর্থ তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।” স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, একসময় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা  বেশি থাকলেও বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও নানা অভিযোগের কারণে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামেদ আলীকে পাওয়া যায়নি। এ সময় অন্য একটি কক্ষে সহকারী ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুর রউফকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

 

এর আগে একাডেমিক সুপারভাইজার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে  বিদ্যালয়টি বন্ধ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়টির পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামেদ আলী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি রাজি হননি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।