প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ডিনরা।
পতাকা উত্তোলন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, ‘দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে হলে এর প্রেক্ষাপট আলোচনা করা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকায় মানুষের মনে ঘোর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যের হাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। ওই সেনা সদস্যরা অন্তরালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তখন দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ভেঙে যায় এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কিছু সেনা সদস্য ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। এতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাধারণ মানুষ দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিল না, গণমাধ্যমেও কোনো সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিল না। পরে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। আন্দোলনরত সিপাহি-জনতা সেদিন তাঁকে মুক্ত করে মাথায় তুলে উল্লাস প্রকাশ করেছিল।’ প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের বাঁক বদলাতে সক্ষম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তা ঘটেছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েও ঘটেছিল।
এখন আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারলেই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ফলপ্রসূ হবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন।
সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন ও প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
এ ছাড়া বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মামুন সরকার। দিবসটি উপলক্ষে আগামী ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।