রাজধানীর উত্তরায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন শিক্ষার্থী শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অতিমাত্রায় দগ্ধ এবং ৭ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডাক্তার শাওন বিন রহমান সোমবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দগ্ধ শিক্ষার্থীদের সবার বয়স ৯ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
আহতদের বিস্তারিত (দগ্ধের শতকরা হার):
আশরাফুল ইসলাম: ১৫%
রোহান: ৫০%
শ্রেয়া: ৫%
কাব্য: ২০%
চাঁন মিয়া: ৪০%
ইউশা: ৬%
মেহেরিন: ৪%
রুপি বড়ুয়া: ৬%
তাসমিয়া: ৫%
ইমন: (তথ্য জানা যায়নি)
জয়না: ৮%
সায়েবা: ৮%
পায়েল: ১০%
কাফি: ১০%
মুনসুরা: ৫%
আলভিনা: ৫%
নিলয়: ১৫%
মাসুম: ৬০%
আয়েন: ৬০%
মাহতাব: ৪০%
আরিয়ান: ৫৫%
মকিন: ৬২%
আবির: ৯০%
আনিজন: ১০০%
নাজিয়া: ৮০%
মেহেরিন চৌধুরি: ১০০%
এছাড়াও, নাফিস, শামীম, শায়ান ইউসুফ, মাহিয়া, আফনান, ফাইয়াজ এবং সামিয়া নামে আরও ৭ জন শিক্ষার্থী আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সোমবার দুপুর ১টার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিমান এবং স্কুল ভবনটিতে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে যায়। জানা গেছে, যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানে বহু স্কুল শিক্ষার্থী ছিল, যাদের বেশিরভাগই হতাহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে অন্তত ৫০ জন গুরুতর দগ্ধ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালেও আরও বহু দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন।