শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিষ কিনলে গরু বিনা মূল্যে দেওয়ার অফার থাকলেও জমেনি গাবতলী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

মহিষ কিনলে গরু বিনা মূল্যে দেওয়ার অফার থাকলেও জমেনি গাবতলী
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। আসন্ন এই বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্যতম প্রধান গাবতলী পশুর হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত হাটে ক্রেতাদের কাঙ্ক্ষিত ভিড় বা কেনাবেচা পুরোপুরি জমে ওঠেনি।

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হাটের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি যেমন বাঁশ ও খুঁটি বসানোর কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন এবং পশুর পরিচর্যা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতেই বেশি সময় ব্যয় করছেন।

 

কুষ্টিয়া থেকে দুটি গরু নিয়ে হাটে আসা বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন জানান, তিনি তাঁর গরু দুটির দাম হাঁকাচ্ছেন দশ লাখ টাকা। দর্শনার্থীরা দামদর করলেও প্রকৃত ক্রেতার এখনো দেখা মেলেনি।

 

বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতার আলোকে জানা যায়, বর্তমানে যারা হাটে আসছেন, তারা মূলত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পশুর দাম সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

কুষ্টিয়ার আরেক ব্যাপারী আবুল হোসেন জানান, সকালে তিনি ছাব্বিশটি গরু নিয়ে এসেছেন এবং আরও ঊনআশিটি গরু আসার অপেক্ষায় রয়েছে। পশু খাদ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

 

অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা ধারণা করছেন, ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে হয়তো দাম কিছুটা ক্রেতাদের অনুকূলে আসবে। মেহেরপুর এগ্রোর হিরা ব্যাপারী জানান, বর্তমানে তাঁর খামারের ছাব্বিশটি গরু হাটে অবস্থান করছে এবং কোরবানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আরও আশিটি গরু আনার প্রস্তুতি চলছে।

 

একইভাবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে পনেরোটি গরু নিয়ে আসা জিয়া ব্যাপারী এবং জামালপুর থেকে আশিটি গরু নিয়ে আসা জাকারিয়াও বর্তমান ক্রেতাশূন্যতায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

 

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিপুল খরচের চাপ মাথায় নিয়ে হাটে আসলেও ক্রেতা না থাকায় তারা মূলত পশুর যত্নেই সময় কাটাচ্ছেন। তবে ঈদের আগে পুরোদমে বিক্রি জমে ওঠার বিষয়ে তারা যথেষ্ট আশাবাদী।

 

হাটের বর্তমান চিত্র কিছুটা ধীরগতির হলেও দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে কেরানীগঞ্জের লাকীচর এলাকা থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির মহিষ। বিক্রেতা মজিবুর রহমান প্রায় এক টন ওজনের এই শক্তিশালী মহিষটির দাম হাঁকাচ্ছেন পঁচিশ লাখ টাকা।

 

খামার থেকে হাট পর্যন্ত পরিবহন ও বিশেষ যত্নের কারণে এর দাম তুলনামূলক বেশি বলে তিনি জানান। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই বিশাল মহিষটি যিনি কিনবেন, তাকে উপহারস্বরূপ দুই মণ ওজনের একটি চমৎকার সাদা রঙের গরু সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে।

 

ক্রেতা আকর্ষণের এই অভিনব কৌশলটি পুরো হাটে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও দর্শনার্থীদের মাঝে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে গাবতলীর পশুর হাট ধীরে ধীরে কোরবানির আমেজে সেজে উঠলেও, প্রকৃত বেচাকেনা শুরু হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।