তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের তড়িৎ ও পেশাদারী তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকাটি। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে আগুনের খবর পায় তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে বিকেলের যানজট উপেক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। আগুনের ভয়াবহতা ও বাতাসের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে একে একে পাঁচটি ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয়। তাদের সমন্বিত ও জোরদার প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইউনিটগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কাঁচাবাজারগুলোতে সাধারণত দাহ্য পদার্থ এবং বাঁশ-কাঠের অবকাঠামো থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে দমকলকর্মীদের দক্ষতায় আগুন আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে ড্যাম্পিং বা ধোঁয়া প্রশমনের কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো অসাবধানতা থেকে সৃষ্ট, তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতেও সময় লাগবে।
তবে স্বস্তির খবর হলো, জনাকীর্ণ বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার পরপরই বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।
উত্তরার এই ঘটনা আবারও সেই ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিল। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সাড়াদান এবং স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে এবারের যাত্রায় বড় কোনো ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে আগুনের উৎস খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।