খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল। বর্তমানে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট একযোগে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে বনানীর ১২ নম্বর সড়কের ৪২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত একটি ১১ তলা ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
জানা গেছে, ওই বহুতল ভবনের একেবারে ওপরের তলায়, অর্থাৎ ১১ তলায় অবস্থিত একটি কাপড়ের গুদাম থেকে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
গুদামে বিপুল পরিমাণে কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখা দেয়। ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের খবরটি মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন চরম নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
অগ্নিকাণ্ডের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রাকিবুল হাসান আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বর্তমান শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জানান, "আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বনানীর ওই ১১ তলা ভবনের একেবারে ওপরের তলায় আগুন লাগার খবর পাই আমরা। সংবাদ পাওয়ার পরপরই বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে আমাদের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বর্তমানে আমাদের পাঁচটি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে এবং তা যেন কোনোভাবেই আশপাশের কোনো ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।"
তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সবসময়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভীতিকর। বিশেষ করে বনানীর মতো একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবনে আটকে পড়া কেউ থাকলে তাদের নিরাপদে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎসুক জনতার ভিড় সামলে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে ফায়ার সার্ভিসকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
এই মুহূর্তে পুরো এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং সবার সতর্ক নজর এখন ফায়ার সার্ভিসের এই উদ্ধার অভিযানের সফল ও নিরাপদ সমাপ্তির দিকে।