শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মিরপুর দশ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

 

শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে স্থানীয় জনতা সড়কে অবস্থান নিলে ওই এলাকার যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কের একাংশ খোলা রেখে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে।

 

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এই বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশু রামিসার মর্মান্তিক পরিণতির পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল, যা শুক্রবার প্রকাশ্য বিক্ষোভে রূপ নেয়।

 

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীরা একত্রিত হয়ে মিরপুর দশ নম্বর গোল চত্বরের একটি অংশ পুরোপুরি অবরোধ করে রাখেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং যানজট নিরসনে সড়কের একপাশ দিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

এর ফলে বর্তমানে ওই এলাকার যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর এগারো নম্বর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার আশপাশ থেকে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী অবুঝ শিশু রামিসা।

 

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে শিশুটির নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই রামিসার শোকার্ত বাবা ন্যায়বিচারের আশায় বাদী হয়ে স্থানীয় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জঘন্য এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মনে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। তদন্তে অত্যন্ত লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে।

 

জানা যায়, মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে এবং নিজের বাসাতেই মরদেহটি গুম করার অপচেষ্টা চালায়।

 

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো ও দ্রুত তৎপরতায় ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে যাওয়া সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

পরবর্তীকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের এই জঘন্য অপরাধের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়া, এই বর্বরোচিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

বর্তমানে পুরো ঘটনাটি কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। কিন্তু রাজপথের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও তীব্র বিক্ষোভ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ অবুঝ শিশু রামিসার জন্য দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সম্পূর্ণ অনড় অবস্থানে রয়েছেন।