সম্প্রতি নিজের আসন্ন সিনেমা ‘তেরে ইশক মে’-এর প্রচারণায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সিনেমার আলোচনার চেয়েও নিজের জন্মশহর দিল্লির বিপর্যস্ত পরিবেশ নিয়ে কথা বলাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, এখনই যদি প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
দিল্লির বর্তমান বায়ুদূষণ পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ’ হিসেবে অভিহিত করে কৃতি স্যানন জানান, শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বা বায়ুর মান সূচক ৪৩০-এর বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা ‘সিভিয়ার’ বা অত্যন্ত গুরুতর ক্যাটাগরিতে পড়ে। গণমাধ্যমের সামনে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, এই বিষাক্ত বাতাস কেবল বয়স্ক বা শিশুদের জন্যই নয়, সুস্থ-সবল মানুষের জন্যও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমাদের সকলের এখনই এই গুরুতর বিষয়ে দৃষ্টিপাত করার সময় এসেছে। যদি সময় থাকতে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আগামীতে এই পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠবে এবং তখন আর কিছুই করার থাকবে না।” দিল্লির এই পরিবেশগত বিপর্যয় যে কেবল জনজীবনকেই স্থবির করে দিচ্ছে না, বরং বিনোদন শিল্পের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তাও উঠে আসে এই আলোচনায়।
দূষণ এবং সাম্প্রতিক কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের সিনেমার শুটিং বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন নির্মাতারা। উদাহরণস্বরূপ, শহীদ কাপুর ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত ‘ককটেল ২’ সিনেমার শুটিং দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘন ধোঁয়াশার কারণে আউটডোর শুটিং করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা প্রযোজকদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কাজের প্রসঙ্গে কৃতি স্যানন জানান, তিনি বর্তমানে প্রখ্যাত নির্মাতা আনন্দ এল রাই পরিচালিত ‘তেরে ইশক মে’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সিনেমায় তার বিপরীতে দেখা যাবে দক্ষিণী সুপারস্টার এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ধানুশকে।
নির্মাতা জানিয়েছেন, এই ছবিটি তার এক সময়কার সাড়া জাগানো সিনেমা ‘রাঞ্ঝনা’-এর একটি ‘স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়েল’ বা ভাবগত সিক্যুয়েল হতে যাচ্ছে। হিন্দি এবং তামিল-উভয় ভাষাতেই ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সিনেমার সাফল্যের পাশাপাশি কৃতি স্যানন তার শহরের সুস্থ পরিবেশ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সবার আগে।